২০ বছর পর বিচার পেলেন বাদী
মৌলভীবাজারে ১৩ ডাকাতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মৌলভীবাজারে ডাকাতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৩ জন আসামিকে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে একই সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা গ্রামের বাসিন্দা মো. মারুফ আহমদের বসতবাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মারুফ আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করলেন। তবে ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৃথক চার্জশিট হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আলাদা একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মিলন, রাহেল, দুলাল, শাহেদ, সেলিম, সাতির, জুনাব আলী, কামাল, মকরম, নকুল, খোকন, জাকারিয়া ও জামাল। তাদের সবার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। রায় ঘোষণার সময় মিলন, রাহেল ও দুলাল আদালতে উপস্থিত থাকায় তাদের সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। বাকি ১০ জন আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এই রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। ডাকাতি একটি ভয়াবহ অপরাধ যা ভুক্তভোগী পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ ২০ বছর পর হলেও বাদীকে ন্যায়বিচার প্রদান করায় আমরা বিজ্ঞ বিচারককে ধন্যবাদ জানাই। এ ধরণের কঠোর সাজা অপরাধ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং নারী ও শিশু আদালতে চলমান ধর্ষণ মামলারও দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: