কমলগঞ্জে টাকা চুরির অভিযোগে যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন
Led Bottom Ad

ভিডিও ভাইরাল

কমলগঞ্জে টাকা চুরির অভিযোগে যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

০৫/০৫/২০২৬ ২১:১২:২৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ইমদাদুল হক ইমন (২৮) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে হাত-পা বেঁধে দুই ঘণ্টা ধরে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শহীদনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, পতনঊষার গ্রামের মিছবাউর রহমানের ছেলে ইমন সম্প্রতি শহীদনগর বাজারের রয়েল ওয়ার্কশপে তাঁর অটোরিকশার কাজ করান। পরবর্তীতে সাড়ে ৭ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তুলে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে ওই ওয়ার্কশপে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। সেখানে জয়নাল মিয়াসহ ৪-৫ জন মিলে টানা দুই ঘণ্টা পর্যায়ক্রমে তাঁকে নির্যাতন করেন। পরে জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের পাশাপাশি ৪ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমনকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে ইমন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর ভাই খালেদুর রহমান দাবি করেন, তাঁর ভাই কোনো চুরি করেননি। জয়নাল মিয়া নামের এক দোকানি ইমনকে জাল টাকার ব্যবসায় সহযোগিতা করতে চাপ দিচ্ছিলেন। তাতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই চুরির নাটক সাজিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় জয়নাল মিয়া খালেদুরকেও মারধর করেন এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে টাকা আদায় করেন।

অভিযুক্ত জয়নাল মিয়া নির্যাতনের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, "ইমন চোর। তাকে ধরার পর অনেকেই মেরেছে। আমি কেবল প্লাস্টিকের কেবল দিয়ে দুটি বাড়ি দিয়েছি।" তবে ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সামনে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে তিনি সম্পাদক প্রার্থী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।

পতনঊষার ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান জানান, পরিবারের ফোন পেয়ে তিনি ইমনকে হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন। তবে সে সময় কেউ তাঁকে নির্যাতনের কথা জানায়নি। চুরির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৪ হাজার টাকা প্রতিপক্ষকে দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad