মৌলভীবাজারে রোদের ঝিলিক: ধান রক্ষায় কৃষকের শেষ লড়াই
Led Bottom Ad

মৌলভীবাজারে রোদের ঝিলিক: ধান রক্ষায় কৃষকের শেষ লড়াই

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৫/০৫/২০২৬ ২১:৪১:৩৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টানা কয়েক দিনের মেঘের গর্জন, বিদ্যুতের ঝলকানি আর ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডব কাটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে মৌলভীবাজারে দেখা মিলেছে রোদের ঝিলিক। আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ ওঠায় প্রকৃতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, হাওরপারের কৃষকদের মনে এখনো কাটেনি দুশ্চিন্তার মেঘ। এই সামান্য রোদকেই পুঁজি করে এখন তারা মেতেছেন ধান বাঁচানোর শেষ যুদ্ধের লড়াইয়ে।

মঙ্গলবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর সংলগ্ন আখাইলকুড়া ইউনিয়নের বিরইমাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। রোদ উঠতেই কৃষকরা ছুটছেন তাঁদের তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে। কেউ বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন, কেউ নৌকায় করে সেই ভেজা ধান সরিয়ে নিচ্ছেন উঁচু স্থানে। তবে অধিকাংশ কৃষকের মুখে হাসি নেই। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় কাটা ধানের স্তূপে পচন ধরেছে, অনেক স্থানে সেই পচা ধানের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে এবং ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জেলার প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাঠপর্যায়ে বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ফসলি জমি বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে ফসল ঘরে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০-৫০ আঁটি ধান বহন করতে নৌকা ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা, আর একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক কৃষকের কাটা ধান নৌকার অভাবে পানির মধ্যেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, জেলায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর ধান নিমজ্জিত এবং ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর ধান পচে নষ্ট হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কাউয়াদীঘি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেচ পাম্পগুলো চালু রাখা হলেও ভারী বর্ষণের কারণে পানি দ্রুত নামানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং সরকারি সহায়তার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোদ উঠলেও এই বিপর্যয় কাটিয়ে কৃষকরা কতটুকু ধান ঘরে তুলতে পারবেন, তা নিয়ে এখন বড় সংশয় দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad