রাজনীতিতে জড়ানোর জল্পনা উড়িয়ে দিলেন প্রসেনজিৎ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে নামা নিয়ে তৈরি হওয়া সব জল্পনা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটালেন অভিনেতা নিজেই। মঙ্গলবার (৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কেবল অভিনয়ের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চান এবং তাঁর গায়ে যেন কোনো ‘রাজনৈতিক রঙ’ লাগানো না হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত মূলত শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে রুদ্রনীল ঘোষের বিপুল ভোটে জয়লাভের পর। জয়ের পর রুদ্রনীল নিজেই প্রসেনজিৎকে ফোন করেন। তাঁদের সেই কথোপকথন প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রসেনজিৎ হয়তো বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বা গেরুয়া শিবিরের প্রতি তাঁর সমর্থন রয়েছে।
এই জল্পনা নাকচ করে প্রসেনজিৎ লেখেন, ‘আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভিনয় করে আসছি এবং আগামী দিনেও একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ—দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।’ রুদ্রনীলের সঙ্গে ফোনালাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই (রুদ্রনীল) ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি সেটুকুই করেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।’
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে প্রসেনজিতের ছেলে তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের একটি কথিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে তৃষাণজিতের ছবি দেখা গিয়েছিল। প্রসেনজিৎ সেই সময়ও জানিয়েছিলেন, সেটি একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্ট এবং তাঁর ২০ বছরের ছেলেকে নিয়ে এমন নোংরা রাজনীতি করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তখন টলিউডের এই শীর্ষ নায়কের এমন অবস্থান ভক্তদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। প্রসেনজিৎ পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, শিল্প ও অভিনয়ই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়াতলে যেতে ইচ্ছুক নন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: