এনসিপিতে যোগ দিলেন মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে
জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ড. মো. নাদিমুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাদিমুর রহমান ছাড়াও ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন এবং মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এমএইচ আরিফ এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’-এর শীর্ষ নেতারাও দলটিতে শামিল হয়েছেন। যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জিসান এবং সহ-সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গাজী। অনুষ্ঠানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে অসন্তোষ বাড়ছে এবং দলটির অনেক সিনিয়র নেতার সন্তানরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সন্তানরাও বর্তমান রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
সরকারের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, তারা বেশিদিন টিকতে পারে না।” তিনি অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, “তারেক রহমান ঠিক এরশাদের মতোই দেশ চালাতে চাইছেন। সারাদেশে মনোনয়ন বঞ্চিতদের দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে রাষ্ট্র পরিচালনার পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। এরশাদের মতো দেশ চালালে পরিণতিও তাঁর মতোই হতে পারে।”
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে উগ্রপন্থিরা ক্ষমতায় আসায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের নাক না গলানোই ভালো। আমাদের বিষয় দেখার জন্য আমরাই যথেষ্ট।” দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অচল অবস্থা দূর করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: