টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে বোরোর ব্যাপক ক্ষতি: লোকসান ৫০ কোটি ছাড়াল
মৌলভীবাজারে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন হাওর ও নিম্নাঞ্চলের অন্তত ২ হাজার ৪৪২ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, যার বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকারও বেশি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে জেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে কাউয়াদিঘি, হাকালুকি ও হাইল হাওরের নিচু এলাকার পাকা ও আধাপাকা ধান এখন পানির নিচে। বিশেষ করে কাউয়াদিঘি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেচ পাম্প চালু থাকলেও বৃষ্টির আধিক্যের কারণে পানি দ্রুত নামানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক স্থানে ধানে অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে এবং পচে যাওয়া ধানের দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে হাওরের বাতাস।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, বিঘা প্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা চুক্তিতে শ্রমিক নিয়ে পানির নিচ থেকে কোনোমতে ধান কাটার চেষ্টা করছেন তারা। তবে বাজারে ধানের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় তারা চরম দিশেহারা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সঠিক সময়ে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে লোকসানের পরিমাণ এতটা হতো না।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের গোলাইয়া বিলে ধানবোঝাই নৌকা ডুবে রঞ্জন বাউরী (৪০) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চলের বাকি ফসল সংগ্রহ নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: