অন্ধকার ভেঙে আলোর স্বপ্ন: শ্রীমঙ্গলের হরিবলের লড়াই
চোখে আলো নেই, কিন্তু স্বপ্ন থেমে নেই। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হুগলিছড়া চা-বাগানের একটি শ্রমিক কলোনির ছোট্ট কুঁড়েঘর থেকে উঠে আসা হরিবল বোনার্জির গল্প যেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির আরেক নাম।
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা তাঁর নিত্যসঙ্গী। বাবা-মা চা-শ্রমিক—অভাব যেখানে প্রতিদিনের বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার মাঝেই বড় হওয়া হরিবল ছোটবেলা থেকেই শুনেছেন নানা উপহাস, অবহেলা। কিন্তু থেমে যাননি কখনো।
অন্ধত্ব তাঁর পথ আটকে দিতে পারেনি। ব্রেইল পদ্ধতি, আর কখনো পুরোনো একটি স্মার্টফোনের ‘টেক্সট টু স্পিচ’ প্রযুক্তি—এসবকে সঙ্গী করেই চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। অদম্য পরিশ্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়ে প্রমাণ করেছেন—মেধা চোখে নয়, থাকে মন আর মস্তিষ্কে।
সব বাধা পেরিয়ে এখন তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা ইউনিভার্সিটি–এর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। কিন্তু সাফল্যের এই গল্পের ভেতরেও লুকিয়ে আছে কঠিন বাস্তবতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও তাঁর প্রতিদিনের সঙ্গী অভাব আর অনিশ্চয়তা। ব্রেইল বইয়ের সংকট তাঁকে আরও পিছিয়ে দেয়। সামান্য প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে তাঁকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আর যেটুকু দৃষ্টিশক্তি আছে, সেটুকুও হারানোর আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা—বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল কর্নিয়া প্রতিস্থাপন—করাতে পারলে তাঁর ডান চোখে কিছুটা আলো ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা, যা তাঁর পরিবারের জন্য একেবারেই অসম্ভব।
হরিবল বলেন,“মানুষ অনেক কথা বলেছে, কিন্তু আমি থামিনি। যদি একটু দেখতে পেতাম, আমার আর কিছু লাগত না। আমি শুধু নিজের চোখে পৃথিবীটা দেখতে চাই।”
অন্ধকারে পথ চলতে চলতে আলোকে ছুঁতে চাওয়া এই তরুণ এখন সমাজের সহৃদয় মানুষের সহায়তার দিকে তাকিয়ে। হয়তো কারও ছোট্ট সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—চোখের আলো।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: