তৃণমূলের চাপ
সিলেটের ৫টি আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা
নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর পরই বিভিন্ন আসনে শুরু হয় দলীয় বিভাজন। মাঠে নামেন প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী। কর্মী ও সমর্থকরা হয়ে যান বিভাজিত। প্রতিদিনই চলে মিছিল-সমাবেশ। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের কয়েকটি আসনে ঘোষিত প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও চাপের রাজনীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতারা এই আসনগুলোতে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই তৃণমূলের চাপের মুখে মাদারীপুর-১ আসনের বিতর্কিত প্রার্থী কামাল জামাল মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত করে দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা মনে করছেন, তাদের দাবি ও মতামত দলীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে—ফলে সিলেট বিভাগসহ আরও কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবির জোর বাড়ছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নিম্নোক্ত পাঁচটি আসনে তৃণমূলের বড় অংশ প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেছে -সিলেট-৩,সিলেট-৬,মৌলভীবাজার-২,সুনামগঞ্জ-১ ও হবিগঞ্জ-৪। এ সব আসনে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, মিছিল এবং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বড় রাজনৈতিক দল হলে মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু আসনে আপত্তি উঠাই স্বাভাবিক। তার ভাষায়—“এ তালিকা চূড়ান্ত নয়। তৃণমূলের মতামত বিবেচনায় প্রয়োজন হলে পরিবর্তন আনা হবে।” তার বক্তব্য স্পষ্ট করেছে যে কেন্দ্রীয় নেতারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের আগে জনপ্রিয়তা, স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী কাঠামো গুরুত্ব পাবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সিলেট বিভাগ নয়—দেশের প্রায় ৩০টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের চাপ, দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনী কৌশল বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন নেতারা।
এ অবস্থায় বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় ঐক্য বজায় রেখে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। তৃণমূলের দাবির প্রতি সংবেদনশীল থাকা এবং একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরির মধ্যে সুষম সমাধানে পৌঁছানোই এখন তাদের মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: