নিষিদ্ধ পরিবহন মহাসড়কে প্রকাশ্যে চললেও নীরব প্রশাসন
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য : বাড়ছে দুর্ঘটনা ঝুঁকি
সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য বেড়েছে ভয়াবহভাবে। কোনো ধরনের অনুমোদন, নিবন্ধন বা আইন মানা ছাড়াই প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক দেদারসে চলাচল করছে। এতে বেড়েছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস এলাকায় কার, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে জেলা প্রশাসকের দুই কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সর্বত্র। এরপর থেকে মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকরা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে সদর উপজেলার চেখনিখারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি ইজিবাইক চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ শহর থেকে নীলপুর পর্যন্ত চলাচল করছে শতাধিক ইজিবাইক। দিরাই রোড হয়ে শান্তিগঞ্জ পর্যন্ত প্রতি মিনিটেই অন্তত দুই থেকে তিনটি ইজিবাইক চলতে দেখা যায়। অধিকাংশ চালকই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ। যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা, বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ছোটা, এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এখন নিয়মিত ঘটনা। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।
নিরাপদ সড়ক চাই সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক মিলন বলেন, “অটোরিকশা বা ইজিবাইক মহাসড়কে চলাচলের কোনো আইনি অনুমতি নেই। তারপরও এগুলো প্রকাশ্যে চলছে। প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। দুর্ঘটনা বাড়ছে, প্রাণ যাচ্ছে — তবু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
গণমাধ্যমকর্মী নোহান আরেফিন নেওয়াজ বলেন, “আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন নিষিদ্ধ পরিবহনে সয়লাব। এতে শুধু যানজটই নয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এসব ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করা জরুরি।”
এ বিষয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, “ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিষিদ্ধ পরিবহন। মহাসড়কে এগুলোর চলাচলের সুযোগ নেই। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি, জরিমানা ও জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল ও জায়গার সীমাবদ্ধতা আছে। তবুও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: