প্রসঙ্গ-সিলেটে করোনার হানা এবং করণীয়
বৈশ্বিক মহামারি করোনার ক্রমেই বিস্তার ঘটছে। প্রায় দেড় বছর পর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে বেড়েছে কিছুটা উদ্বেগ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবাইকে শুধু একটু সচেতন থাকতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে যারা বয়স্ক, শারীরিকভাবে দুর্বল কিংবা আগে থেকে জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানাটা জরুরি। কেননা তাদের জন্য এই ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক হতে পারে।
সিলেটেও গেল দুইদিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং অপরজনের অবস্থা উন্নতির দিকে। করোনা শনাক্ত হওয়া দুইজনকেই রাখা হয়েছে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে। সিলেটে দুইদিনে দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত দুইজনই সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজনই পুরুষ। একজনের বয়স ৮০ বছরের বেশি। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে এবং অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। সচেতনতাই আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
সিলেটের করোনা ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা রোগীর সম্ভাব্য বাড়তি চাপ মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ১৬টি আইসিইউ বেড, পুরুষদের জন্য ২০টি এবং মহিলাদের জন্য আরও ২০টি ডেডিকেটেড বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ২০২০ সালের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও একইভাবে সজাগ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মিজানুর রহমান।
অপরদিকে সিলেটের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম করোনা মোকাবেলায় কাজ করছে। একইসঙ্গে হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে আলাদা ফ্লু কর্নার, যেখানে জ্বর, সর্দি ও কাশির উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা পাচ্ছেন।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, সিলেটে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে যেকোনো সময় পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
গেল ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদ জানান, যেসব হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব রয়েছে, তাদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে নাম রয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। তবে হাসপাতালে পরীক্ষার কিট সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থানীয় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সরকারীভাবে বিদেশ থেকেও কিট আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে সরকারি কঠোর নির্দেশনার ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে সকলকে। করোনা প্রতিরোধে জন সচেতনতাই প্রতিরোধ ব্যবস্থার পূর্ব শর্ত। আশা করি-বিষয়টির প্রতি সকলেই দায়িত্বশীল হবেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: