আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত বালাগঞ্জের কিশোর তোফায়েল আহমেদ
Led Bottom Ad

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত বালাগঞ্জের কিশোর তোফায়েল আহমেদ

১১/১০/২০২৫ ২৩:৫৬:৩০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ International Children’s Peace Prize ২০২৫-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কিশোর বিজ্ঞানমনস্ক অধিকারকর্মী তোফায়েল আহমেদ। তিনি উপজেলার সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ও নবীনগরের মো. মোস্তফা মিয়া ও সাজনা বেগমের পুত্র।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন KidsRights Foundation প্রতিবছর শিশু অধিকার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, জলবায়ু ও মানবকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মনোনীতের মধ্যে এবারের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি কিশোর তোফায়েল।

তোফায়েল দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অধিকার, জলবায়ু ন্যায্যতা ও প্রযুক্তিশিক্ষা বিস্তারে কাজ করছেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি ‘বিজ্ঞান ক্লাব’, যার মাধ্যমে সহপাঠীদের STEM (Science, Technology, Engineering and Mathematics) শিক্ষায় উৎসাহিত করছেন।

শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিক্ষায় সমান সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি মেয়েদের বিজ্ঞানচর্চায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। বিজ্ঞানের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে তোফায়েল রচনা করেছেন দুটি বই— A Manual to Modern Physics এবং A Journey to the Center of the DNA। তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত কর্মশালা ও মেন্টরিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়েছে।

শিক্ষা ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও উদ্ভাবনে রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। তিনি সৌরশক্তিচালিত ইকো-হাব ভেহিকল, কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক তৈরির প্রযুক্তি এবং স্বল্প-সম্পদ অঞ্চলের জন্য পোর্টেবল পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। উদ্ভাবনী চিন্তা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তোফায়েল হয়েছেন WISPO ও IYRIC প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট। এছাড়া তিনি NASA Space Apps Challenge 2024-এ গ্লোবাল নমিনি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞান ও উদ্ভাবনই পারে পৃথিবীকে আরও ন্যায্য, সবুজ ও নিরাপদ করে তুলতে। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

তোফায়েলের মা সাজনা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এটা শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য গর্বের বিষয়। ছোটবেলা থেকেই তোফায়েল নতুন কিছু আবিষ্কারের স্বপ্ন দেখত। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।”

শিক্ষকদের মতে, তোফায়েলের কর্মকাণ্ড শিশুদের অনুপ্রাণিত করছে এবং সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তিনি ভবিষ্যতে শিশুদের কল্যাণ ও বিজ্ঞানচর্চা বিস্তারে আরও বড় ভূমিকা রাখতে চান।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad