রাজস্ব বঞ্চিত সরকার
যাদুকাটা নদীর দুই শাখা থেকে ১১ মাসে ২০ কোটি টাকার বালু লুট
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীর দুই শাখা- মাহারাম ও শান্তিপুর নদী থেকে গত ১১ মাসে ২০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ বালু তুলে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বালুখেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, নদী দুটি ইজারাবিহীন হওয়া সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আশপাশের এলাকায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। ফলে তীরবর্তী বসতবাড়িগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু শ্রমিক ও নৌকা আটক করলেও মূল কারবারিরা সব সময়ই অধরা থেকে যাচ্ছে। গত দুই মাস কোনো বড় ধরনের অভিযান না হওয়ায় বালুদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এমনকি শান্তিপুর নদী থেকে অবৈধ বালু এনে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনেও স্তূপ করে রাখা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক অভিযান চালিয়ে সেই বালু জব্দ করেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে তৎক্ষণাৎ আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার শাহরুখ আলম শান্তনু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর ও মাহারাম নদী থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সংগৃহীত বালু ট্রলারে করে মধ্যনগর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে। ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বালু জব্দের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয়রা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অনলাইনসংবাদ
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী দুটি থেকে বালু তুলে ও বিক্রি বন্ধে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা, কমিটি গঠন এবং বাঁশের বেড়া দেওয়া হলেও প্রভাবশালী চক্রকে ঠেকানো যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও অভিযান চলছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে; কোনো অনিয়মকে ছাড় দেওয়া হবে না।
লতিফুর রহমান রাজু/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: