সুনামগঞ্জে এলজিইডির ১০ লাখ টাকার প্রজেক্টে হরিলুট!

গাছ লাগানোর নামকাওয়াস্তে মহড়া

সুনামগঞ্জে এলজিইডির ১০ লাখ টাকার প্রজেক্টে হরিলুট!

লতিফুর রহমান রাজু. সুনামগঞ্জ

১০/০৯/২০২৬ ১৫:৫৭:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

পরিবেশ সুরক্ষার দোহাই দিয়ে সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণের নামে সরকারি টাকার মহাসমারোহে ‘হরিলুট’ হয়েছে। দায়সারাভাবে ৫ হাজার গাছ লাগানোর নাটক সাজিয়ে একটি প্রকল্পের পুরো ১০ লক্ষ টাকাই জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। গাছ রোপণের পর তার সুরক্ষায় ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রকল্প এলাকায় এখন কোনো গাছের চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। এলজিইডির এই চরম অনিয়ম ও হরিলুটের ঘটনায় ফুসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রারিপ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা-বীরগাঁও সড়কের দুই পাশে ৪০০ গাছ রোপণ করে। মাসখানেক আগে রোপণ করা এসব গাছের চারা প্রতি খরচ ধরা হয় অবিশ্বাস্য ৫ ১০০ টাকা। সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজার টাকার প্রজেক্টের বেশিরভাগ গাছই এখন নিখোঁজ। বেড়াবিহীন চারাগুলো পশুখাদ্যে পরিণত হয়েছে, আর বাকিগুলো পরিচর্যার অভাবে শুকিয়ে মরে গেছে। মাত্র একটি বাঁশের খুঁটি আর প্লাস্টিকের চটে চারা আটকে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে সংশ্লিষ্টরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫০০ টাকা বরাদ্দের চারার পেছনে বড়জোড় ৫০ টাকা খরচ করে বাকি পুরোটাই পকেটস্থ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বীরগাঁও পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রুশন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খালি গর্ত করে একটা বাঁশের খুঁটি দিয়ে চারা পুঁতে রেখে গেছে। চারাপ্রতি ৫০ টাকার বেশি খরচ হয়নি। এরপর আর কেউ খবর নেয়নি। গরু-ছাগলে সব খেয়ে ফেলেছে।" তরুণ জুবায়েল বক্সের মতে, "এটি বৃক্ষরোপণ নয়, অনিয়মের কারখানা। এভাবে টাকা নষ্ট করার চেয়ে গাছ না লাগানোই ভালো ছিল।"

বিতর্কিত এই প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম দায় এড়ানোর সুর তুলে বলেন, "কিছু গাছ চুরি হয়েছে, নতুন বাজেট পেলে আবার লাগানো হবে।"

এদিকে জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, রারিপ প্রকল্পের ১০ লাখ টাকা বরাদ্দে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। কেবল তা-ই নয়, 'আম্পান' প্রকল্পের আওতায় আরও ১০ লাখ টাকা ঢেলে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও চলছে!

জনগণের টাকায় এমন নামকাওয়াস্তে প্রজেক্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেনের দাবি—বরাদ্দ কম থাকায় শক্ত বেড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের লোক রাখা সম্ভব হয়নি। তবে ঠিকাদারকে নতুন গাছ রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই বলে সাফাই গান তিনি।

তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ স্থানীয় পরিবেশবাদীরা। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, "পরিকল্পনাহীন কাজের আড়ালে এখানে হরিলুট চালানো হয়েছে। সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।"

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad