সিলেটের বিতর্কিত মিসবাউলের ভাইয়ের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ
সিলেটে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ।
সিলেটের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারের কার্যালয়ে (পারিবারিক মোকদ্দমা নং-২৮/২০২৬) মামলাটি দায়ের করেন সুমা বেগম (২১)। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার খামাউড়া (ভাটেরা) গ্রামের সেফুল মিয়ার মেয়ে।
মামলার বিবাদীরা হলেন— সুমা বেগমের স্বামী ও সিলেট এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা (ক্যাডেট কলেজ) এলাকার নিমার আলীর ছেলে যুক্তরাজ্য (ইংল্যান্ড) প্রবাসী মোঃ কামরুল হাসান (৪২), শাশুড়ি হোসনে আরা বেগম (৬০), ভাসুর আতিকুল হক (৩৯) ও আজিজুল হক (৪৫)।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১১ মার্চ ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ৬ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কামরুল হাসানের সাথে সুমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনের বাবার বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী কামরুল হাসান সুমা বেগমের ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান।
অভিযোগে বলা হয়, স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই কামরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা সুমা বেগমকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে আরও ১০ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সুমা বেগমের বাবা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কামরুল বিদেশ থেকে ফোনে এবং দেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা সুমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বিকেলে যৌতুকের টাকার জন্য পুনরায় নির্যাতন করা হলে সুমা বেগম বিষয়টি তার বাবাকে জানান। সেদিনই সুমার বাবা ও আত্মীয়রা বড়শালার শ্বশুরবাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে চাইলে বিবাদীরা সাফ জানিয়ে দেন, ১০ লক্ষ টাকা না দিলে সুমা সংসার করতে পারবে না এবং তাকে তালাক দেওয়া হবে। একপর্যায়ে সুমা বেগমকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রবাসী স্বামী কামরুল হাসান আবারও ফোন করে যৌতুকের টাকা দাবি করেন এবং টাকা না পাওয়ায় তালাকের হুমকি দেন। আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে একাধিকবার আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সুমা বেগম আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলায় বাদীনি সুমা বেগম দেনমোহরের পাওনা টাকা আদায়, বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি এবং পিত্রালয়ে অবস্থানকালীন সময় থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা হারে খোরপোষ (ভরণপোষণ) পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে ডিক্রি জারির প্রার্থনা করেছেন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: