জুন মাসে মাদক মামলায় সুনামগঞ্জে গ্রেফতার ১৩৩,শীর্ষে সদর ও তাহিরপুর
সুনামগঞ্জে মাদকের রুট বন্ধ ও কারবারিদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যত জোরদার হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে মোট ৯৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩৩ জন মাদক কারবারি ও চোরাকারবারিকে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলাগুলো এবং জেলা সদরেই মাদকের ট্রানজিট ও বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি। তবে শুধু পুলিশই নয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র্যাব ও নৌ-পুলিশের সমন্বিত অভিযানে জেলাজুড়ে মাদক সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন বড় ও মাঝারি সারির কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এই অভিযানের সার্বিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মাদকের চোরাচালান ও বিস্তার রোধে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না। জুন মাসে জেলার ১২টি থানা ও ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের যৌথ ও পৃথক অভিযানে গত মাসে ৭৫টি মামলা রুজু হয়, যেখানে গ্রেফতার করা হয় ১২২ জনকে। বাকি ১৮টি মামলা ও ১১ জন গ্রেফতার করে র্যাব, নৌ-পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
থানাভিত্তিক অভিযানে সবচেয়ে বেশি ৩১ জন গ্রেফতার হয়েছেন জেলা সদর থানার ১১টি মামলায়। সীমান্তঘেঁষা তাহিরপুর থানায় ১২টি মামলায় ১৮ জন এবং ধর্মপাশা থানায় ৭টি মামলায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ছাতক থানায় ৫টি মামলায় ১০ জন, বিশ্বম্ভরপুর থানায় ৬টি মামলায় ৮ জন, জগন্নাথপুর থানায় ৩টি মামলায় ৭ জন এবং দিরাই থানায় ৫টি মামলায় ৭ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে ৬টি মামলায় ৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, জামালগঞ্জ থানায় ৬টি মামলায় ৬ জন, দোয়ারাবাজার থানায় ৬টি মামলায় ৪ জন, শান্তিগঞ্জ থানায় ৪টি মামলায় ৪ জন এবং সর্বনিম্ন শাল্লা থানায় ২টি মামলায় ২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা যায়, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার এবং সদর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলো দিয়ে মূলত চোরাই পথে মাদক সুনামগঞ্জে প্রবেশ করে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা ভারতীয় সস্তা মদ, গাঁজা এবং ফেনসিডিল জেলা শহর হয়ে শান্তিগঞ্জ ও ছাতক রোড দিয়ে বিভাগীয় শহর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। হাওরবেষ্টিত জেলা হওয়ায় বর্ষাকালে নৌপথ ব্যবহার করে মাদক পাচারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, যা দমনে নৌ-পুলিশের ভূমিকা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন সচেতন মহল।
পুলিশ প্রশাসন অবশ্য সাফ জানিয়েছে, মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার আরও জানান, জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে। মাদক কারবারিদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না এবং আগামীতে এই বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
উল্লেখ্য মে মাসে অভিযান চালিয়ে মোট ১০২টি মামলায় ১৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যেথানা পুলিশ ৭৬টি মামলায় ১১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র্যাব ও নৌপুলিশ বাকি মামলা ও গ্রেফতার সম্পন্ন করেছে।
আজহারুল/সজল
মন্তব্য করুন: