ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে
ওসমানীনগরে দলিল লেখক সমিতির দুই পক্ষে চরম উত্তেজনা
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় দলিল লেখক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সমিতির গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন বিধিমালা উপেক্ষা করে একটি একপাক্ষিক নির্বাচন কমিশন গঠন করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, যা ঘিরে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেল নির্বাচন বয়কট করেছে এবং ওই তফসিল বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই ওসমানীনগর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের আওতাধীন দলিল লেখক সমিতির ১৫টি পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ জুলাই মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ও ১৬ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের অভিযোগ, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়নি এবং জেলা দলিল লেখক সমিতির অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। তাঁরা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগপন্থী প্যানেল পরিকল্পিতভাবে নিজেদের সুবিধামতো একটি ‘ভুয়া’ কমিশন গঠন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এছাড়া নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আহ্বায়ক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শাহাব উদ্দিন মুহিত, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শিব্বির আহমদ ও আব্দুল কুদ্দুছ—তিনজনই আওয়ামী লীগপন্থী প্যানেলের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে। ভোটার তালিকায়ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, ভোটার তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের দলিল লেখক সনদ নেই বা নবায়ন হয়নি।
বিএনপি প্যানেলের এক নেতা মো. আবু জাফর মুজাফফর অভিযোগ করেন, “বর্তমান সরকারপন্থী একটি মহল পরিকল্পিতভাবে হাসিনা স্টাইলে নির্বাচন আয়োজন করছে, যাতে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকে না। আমরা এই প্রহসনের নির্বাচন বয়কট করেছি এবং তফসিল বাতিলের দাবি জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আহ্বায়ক সৈয়দ শাহাব উদ্দিন মুহিত প্রথমে ফোন রিসিভ করে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আর তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে, জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হাজী ফরিদুর রহমান জানান, ওসমানীনগর সমিতির নির্বাচন আয়োজনের জন্য জেলা কমিটির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তাজপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, “দলিল লেখকদের নির্বাচন তাদের নিজস্ব সংগঠনের বিষয়। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এতে কোনো ভূমিকা থাকে না।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ওসমানীনগরের দলিল লেখকদের মধ্যে বিভক্তি আরও বাড়বে, যা পুরো এলাকার দলিল কার্যক্রমে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: