সহযোগিতা চাইলেন এমপি ও প্রশাসনের
হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে জগন্নাথপুরে বৃদ্ধের সংবাদ সম্মেলন
এক শতাব্দীর জীবনের ভার কাঁধে নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় এবার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন শতবর্ষী হাজী আব্দুল গফুর। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নানা হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাজী আব্দুল গফুর। সেখানে তিনি একই গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে সিরাজ আলীর বিরুদ্ধে জমি, রাস্তা ও সামাজিকভাবে হয়রানির অভিযোগ তোলেন।
হাজী গফুর জানান, রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৯৮ সালের ১৭ নভেম্বর তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিনের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই আপস সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিরাজ আলী তাঁর মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া, জমিতে গাছ লাগিয়ে ফসল উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি এবং ভূমি আত্মসাতের চেষ্টা চালানোর কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও সিরাজ আলীর অসহযোগিতার কারণে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। পরে ইউপি চেয়ারম্যানও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর যাতায়াতের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে আবারও অভিযোগ করেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলেও এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বৃদ্ধ হাজী গফুরের দাবি, এরপর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় তিনি ও তাঁর ছেলে আহত হন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করলেও উল্টো প্রতিপক্ষের করা মামলায় তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাজী আব্দুল গফুর বলেন, “আমি বয়সের ভারে আর এসব মোকাবিলা করতে পারছি না। বহুবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষী এক মানুষের এমন আকুতি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: