মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন
শিক্ষাঙ্গণে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি ছাত্র জমিয়তের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। সংগঠনটির অভিযোগ, কিছু সংগঠনের গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে আকস্মিক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবি উত্থাপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে ঘটা সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়।” তিনি পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতিকে ‘নোংরা প্রতিযোগিতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। সংগঠনটির মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যে ঐক্যবদ্ধ শক্তি ফ্যাসিবাদ হঠিয়েছিল, বর্তমানে সেই শক্তির বিভক্তি ও সংঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক।
ছাত্র জমিয়ত স্পষ্ট করে জানায়, তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়, বরং ‘লেজুড়বৃত্তিক, সন্ত্রাসী ও গোপন রাজনীতি’ বন্ধের পক্ষপাতী। তাদের দাবি, একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব ছাত্র সংগঠনের উন্মুক্ত সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ‘গুপ্ত রাজনীতি’কে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে রিদওয়ান মাযহারী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গোপন রাজনীতির অর্থ হলো কোনো অগণতান্ত্রিক বা ‘হিডেন এজেন্ডা’ থাকা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৫টি প্রধান দাবি পেশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, গুপ্ত ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, সব রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান করা, হলের গেস্টরুম ও গণরুম প্রথা চিরতরে বিলোপ করে প্রশাসনিক নিয়মে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদ বিন জাকিরসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: