ডিজেল সংকট ও বিদ্যুৎবিভ্রাট
মাধবপুরে ধান কাটা ও চা উৎপাদনে চরম বিপর্যয়
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, অসহনীয় বিদ্যুৎবিভ্রাটের ফলে উপজেলার চা বাগানগুলোর কারখানাগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই দ্বিমুখী সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও চা বাগান কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান পেকে গেলেও ডিজেল না থাকায় হারভেস্টার মেশিনগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, দ্রুত ধান কাটার জন্য তাঁরা আধুনিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও এখন বাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। দু-এক জায়গায় পাওয়া গেলেও তার দাম অনেক বেশি। ফলে ধান পেকে জমিতে পড়ে থাকলেও তা সময়মতো গোলায় তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শ্রমিক সংকট থাকায় এবং হারভেস্টার অচল হয়ে পড়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার জানিয়েছেন, কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মাধবপুরের জগদীশপুর, বৈকুণ্ঠপুর ও তেলিয়াপাড়াসহ ২৩টি চা বাগানে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে নষ্ট হচ্ছে চায়ের গুণগত মান। অনেক বাগান কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে কাঁচা পাতা ফেলে দিচ্ছেন, এতে প্রতিদিন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। চা বাগান ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও ডিজেলের চড়া দামের কারণে সেটিও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্প বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: