হবিগঞ্জে সিলিকা বালু ঘিরে অচল ইজারা ব্যবস্থা, রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলায় সিলিকা বালুমহালকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বৈধ ইজারা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার চলছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, ২০২৩ সালে সোনাই নদীর একটি বালুমহাল ৬ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও বর্তমানে ইজারা না থাকায় বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ড্রেজার ব্যবহারের ফলে সুতাং নদীসহ আশপাশের এলাকায় ভাঙন ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানিতে হাইকোর্ট অবৈধ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, বালুমহাল ইজারার বিষয়ে কাজ চলছে এবং বৈধ উত্তোলন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একদিকে যেমন বিপুল রাজস্ব ক্ষতি বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: