স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অবহেলিত হবিগঞ্জের যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার
Led Bottom Ad

গৃহহীন হয়ে কাটছে মানবেতর জীবন

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অবহেলিত হবিগঞ্জের যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিনিধি, মাধবপুর

২৬/০৪/২০২৬ ১৮:১৬:২২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বঞ্চনা ও সামাজিক গ্লানির বেড়াজাল ভাঙতে পারেননি যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বেগম। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের এই নারী গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগমের কন্যা এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন সাক্ষী। জন্মপরিচয়ের কারণে আজীবন সামাজিক বৈষম্য ও দারিদ্র্যের শিকার এই নারী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধশিশু পরিচয়ের কারণে সমাজ তাঁকে আজীবন অবহেলা করেছে, এমনকি কেউ তাঁকে বিয়েও করেনি। বর্তমানে তিনি গলায় জটিল রোগসহ নানা মনোদৈহিক সমস্যায় ভুগছেন, কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তাঁর জীবনের চরম বিপর্যয় নেমে আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক চাপের মুখে সৎ ভাইয়ের মারধরের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হন তিনি। এরপর থেকে মনতলা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটি মন্দিরের পাশে আশ্রয় নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

শামসুন্নাহার বেগম জানান, সাহায্যের জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো কার্যকর ফল পাননি। এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম তাঁকে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিলেও সেখান থেকেও কোনো সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে শামসুন্নাহার বলেন, “রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। বাড়ি ও আর্থিক সহায়তার অনেক প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে কিছুই পাইনি। আমি এখন ঘরহীন, আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী বিশ্বজিৎ পাল এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক অভিহিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বীরাঙ্গনার সন্তান ও রাষ্ট্রীয় সাক্ষীর এমন করুণ দশা লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়, উন্নত চিকিৎসা এবং স্থায়ী সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad