দুর্যোগের আশঙ্কায় দোয়ারাবাজারে দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা
Led Bottom Ad

বাম্পার ফলন, তবু মুখে হাসি নেই কৃষকের

দুর্যোগের আশঙ্কায় দোয়ারাবাজারে দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা

মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

২৬/০৪/২০২৬ ২১:১৬:৪৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হাওরের মাঠজুড়ে এবার সোনালি বোরো ধানের সমারোহ। ভালো ফলনে কৃষকের মনে থাকার কথা আনন্দ, কিন্তু বাস্তবতা যেন উল্টো। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ধান ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।


উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে এখন ধান কাটার ব্যস্ত সময় চলছে। কোথাও উৎসবের আমেজ, কোথাও আবার উদ্বেগের ছায়া। কারণ, মাঠে ধান পেকেছে, কিন্তু কাটতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানা সংকটে। হারভেস্টার চালাতে জ্বালানি মিলছে না, শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, এর মধ্যে ঘন ঘন বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি আর আগাম বন্যার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দোয়ারাবাজারে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান পুরোপুরি পাকেনি। তবে যেসব জমির ধান পেকেছে, সেগুলো কাটতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা।


এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকেছে, সেসব জমির ধান দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতি রাতেই এমন বৈরী আবহাওয়ার দেখা মিলছে।


সরেজমিনে সদর ইউনিয়নের নাইন্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন আবুল কাশেম ও রুবেল মিয়া। প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন তাঁরা। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পানিতে নেমেই ধান কাটতে হচ্ছে শ্রমিকদের।


স্থানীয় কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, “ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।”


জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৯টি ছোট-বড় হাওরে এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সাধারণত বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠের শুরু পর্যন্ত ধান কাটা চলে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি বেশি থাকায় অনেক কৃষক ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটা শুরু করেন।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম খাঁন বলেন, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, কৃষকদের হারভেস্টার ব্যবহারে জ্বালানি সরবরাহ সহজ করতে প্রত্যয়ন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বালু মহালে শ্রমিক নিয়োগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে এবং ইউপি চেয়ারম্যানদেরও সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad