বঞ্চিত মূল অংশিদাররা
ওসমানীনগরে যৌথ সম্পত্তির টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে এককভাবে আত্মসাত
সিলেটের ওসমানীনগরে অধিগ্রহণকৃত যৌথ ভূমির মালিকানা জালিয়াতি করে এককভোবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে সম্পত্তির মূল অংশিদারদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিকানার অপর অংশ। দলিল সূত্রে ওই যৌথ সম্পত্তির অপর অংশিদার মালিক আমান আহমদ ও তাঁর পরিবার।
জানাগেছে, ওসমানীনগরের সাদিপুর মৌজায় অধিগ্রহণ করা একটি দোকানঘরের ক্ষতিপূরণের টাকা একতরফাভাবে মালিকানা দেখিয়ে আত্মসাত করেন আবদুল মালিক। এলএ মামলা নম্বর ১১/২০২১–২২-এর আওতায় একটি দোকান ঘর অধিগ্রহণ করে সরকার। কিন্তু টাকা গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের তালিকায় কৌশলে একক নাম লিখিয়ে নেন আবদুল মালিক। ফলে ক্ষতিপূরণের তালিকায় কেবল আব্দুল মানিকের নাম রাখা হয়। এর মধ্য দিয়ে আর্থিক ন্যায্য অধিকার ও সুবিধা থেকে আমান আহমদ ও তার পরিবারকে বঞ্চিত করা হয়।
ক্ষতিপূরণের টাকা বঞ্চিত হওয়া ও দোকান ঘরটির দলিলমূলে মালিকদাকারী আমান আহমদ বলেন, খতিয়ান নং ৯৬৪ ও দাগ নং ১৪৭০ অনুযায়ী দোকানঘরটি যৌথ মালিকানাধীন। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি লিখিত আপসনামা হয়, যাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমান হারে ক্ষতিপূরণ বণ্টনের বিষয় উল্লেখ ছিল। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সাক্ষী ছিলেন।
তবে মাঠ তদন্তে এসব তথ্য উপেক্ষা করে কেবল এক পক্ষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আমান। তিনি বলেন, এই তদন্ত একটি পরিকল্পিত ও জালিয়াতি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে বাদ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে দাবি তুললে তাঁকে “হাত-পা ভেঙে ফেলার” হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপও তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেন তিনি।
বঞ্চিত আমান আহমদ ক্ষতিপূরণ তালিকায় প্রকৃত অংশীদারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন,জালিয়াতি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি ও হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনিক দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তিনি এ ব্যাপারে ঘটনার দ্রুত নিস্পত্তি ও সুবিচার কামনা করে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে ৩১ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: