প্রসঙ্গ : সিলেটে আরিফুল-লোদী বচসা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নি:সন্দেহে দেশের একটি বৃহত্তম দল। ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মানুষ এই দলটির কাছে এখন ভালো কিছু প্রত্যাশা করে এবং ক্ষমতায় যাবার উপযোগী দল হিসেবে গণ্য করে। এই প্রত্যাশা এবং গণ্য হওয়ার বিষয়টি দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিবেচনায় প্রথম প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কিন্তু প্রত্যাশা থাকলেও ভোগবাদী রাজনীতির প্রথা সে পথে বরাবরই অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের নির্ভরতা এবং বিশ্বাস বারবার পরিবর্তন হয়।
সিলেটে একটা সময় শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল বিএনপির। নয়ের দশক এর পর সেই অবস্থায় ধীরে ধীরে ফাটল ধরতে থাকে। সি্লেটের ১৯ আসনের বেশির ভাগ চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। খেই হারায় বিএনপির রাজনীতি। অবশ্য এর পেছনে রাজনৈতিক বিভাজন না থাকলে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল থাকায় বিপর্যয়ে পড়ে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের হাত ধরে সিলেটের যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হলেও ভোটের রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ে দলটি।
দলের সাংগঠনিক অবস্থান কঠোর, নেতাকর্মীদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক, দলের প্রতি অনুরাগ-এই তিনের সমন্বয়ে দল শক্তিশালী কিংবা ভিত্তি মজবুত করা সম্ভব। কিন্তু বিভক্তি রেখা একবার টেনে দেওয়া হলে সেই রেখা ভেদ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে;। সিলেট বিএনপিতে বর্তমান সময়ে সেটিই বেশি করে বিস্তৃত হচ্ছে। এই অবস্থায় দলের ত্যাগীরা নেতারা হয় দিশেহারা। ওয়ার্ডে, উপজেলা, জেলা ও পৌর এলাকায় সর্বত্র প্রতিফলিত হয় বিভক্তির রাজনীতি।
শুক্রবার (৩০মে) দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের আলোচনা সভায় বক্তৃতা প্রদানকালে সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী মুখোমুখি বচসায় লিপ্ত হন। এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে দলের অনৈক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো। বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি রাজনৈতিক সমাজ। বিশেষ করে রাজনৈতিক এই অস্থিরতা সময়কালীন বচসার দৃশ্য কাউকেই ভরসা যোগাবে না, সাহস যোগাবে না, শক্তি যোগাবে না।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। ব্যক্তি পর্যায়ের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে আনা কখনোই সমিচীন নয়। দলের নেতা হলে, দলের প্রতি যেভাবে দায়বোধ থাকবে, তেমনি কর্মীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। দল ক্ষমতায় না বসলে, দলের নেতা হওয়ারও কোন মানে নেই। মোদ্দা কথা- সামনের নির্বাচনকে মাথায় রেখে বিএনপি নেতৃবৃন্দকে এখন থেকেই বিষয়টি গভীর গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনতে হবে। না হলে সব কিছুই হবে বুমেরাং।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: