দোয়ারায় খামার ও হাট ব্যবহার করে ভারতীয় গরু ‘দেশি’ করার কৌশল
Led Bottom Ad

দোয়ারায় খামার ও হাট ব্যবহার করে ভারতীয় গরু ‘দেশি’ করার কৌশল

লতিফুর রহমান রাজু. সহযোগী সম্পাদক

১৪/০৫/২০২৬ ১৭:৪২:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় গরু এনে স্থানীয় খামার ও হাটের মাধ্যমে ‘দেশি’ হিসেবে বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পথ ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


অভিযোগ রয়েছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে আনা গরু প্রথমে বোগলাবাজার এলাকার বিভিন্ন খামারে রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টা বা এক রাত রাখার পর সেগুলো স্থানীয় হাটে তোলা হয়। এতে ভারতীয় গরুকে দেশীয় গবাদিপশু হিসেবে উপস্থাপন করা সহজ হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিটি গরু খামারে রাখার জন্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ কাজে কিছু খামারি ও হাট–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।


সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকায় অন্তত আটটি খামার রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির নিবন্ধন নেই। দিনের বেলায় কার্যক্রম সীমিত থাকলেও রাতের দিকে গরু আনা–নেওয়া বাড়ে বলে দাবি স্থানীয়দের।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দোয়ারাবাজারে বছরে প্রায় ছয় হাজার গবাদিপশু উৎপাদিত হয়। তবে স্থানীয় হাটগুলোর বেচাকেনার পরিমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু হেলাল মোস্তফা বলেন, “খামারগুলো নিবন্ধিত হলেও সেগুলো অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, খামার ও হাটের আড়ালে চলা এই জালিয়াতি বন্ধে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় খামারিরাও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বেন।


ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad