“কামলা নয়, কর্মবীর: হবিগঞ্জের মানুষের পরিচয়”
Led Bottom Ad

“কামলা নয়, কর্মবীর: হবিগঞ্জের মানুষের পরিচয়”

‎স্বপন রবি দাশ,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

০৫/০৫/২০২৬ ১১:৪০:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের মাটি, মানুষ আর শ্রম—এই তিনের মিলেই গড়ে উঠেছে এক অনন্য বাস্তবতা। এই অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ নিয়ে গবেষণার সুযোগ থাকলেও, এখানকার মানুষের কর্মক্ষমতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। দেশের বড় বড় শিল্পকারখানাগুলো কেন হবিগঞ্জকে বেছে নিয়েছে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এখানকার শ্রমনিষ্ঠ মানুষের মাঝেই।


শিল্পকারখানার বিশাল শেডের নিচে যখন হবিগঞ্জের শ্রমজীবী ভাইবোনেরা নিরলস পরিশ্রম করেন, তখন শুধু উৎপাদনই বাড়ে না—বাড়ে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর গতি। তাদের ঘামের বিনিময়ে কোম্পানিগুলো পায় লাভের হাসি, আর তারা নিজেরা গড়ে তোলেন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাস। কম খরচে দক্ষ শ্রম—এই বাস্তবতা যেমন শিল্পপতিদের জন্য সুবিধাজনক, তেমনি এটি আমাদের সমাজের এক গভীর সত্যও তুলে ধরে।


তবে হবিগঞ্জের মানুষ শুধু কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নন। মৌসুম এলেই তারা ছুটে যান নতুন কর্মযজ্ঞে। ধান কাটার সময় পুরো এলাকা যেন ফাঁকা হয়ে যায়—ট্রাকভর্তি মানুষ পাড়ি জমান মৌলভীবাজার, কুমিল্লা কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পথে। দিনশেষে তারা ফিরে আসেন ক্লান্ত শরীর নিয়ে, কিন্তু চোখে থাকে তৃপ্তির ঝিলিক—নিজের উপার্জিত অর্থের নিশ্চয়তা।


অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর অর্থনীতিতেও হবিগঞ্জের মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। সবজি বিক্রি, হকারি, রিকশা বা ভ্যান চালানো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ছোট ছোট পণ্যের ফেরি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ভেষজ বা দৈনন্দিন জিনিস বিক্রিতে তাদের দক্ষতা যেন এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক মার্কেটিংকেও চ্যালেঞ্জ জানায়।


তবে এই গর্বের গল্পের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেকটি বাস্তবতা। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায়, জীবিকার তাগিদে মানুষকে কঠোর শ্রমের পথ বেছে নিতে হচ্ছে। কাজই যেন তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন, একমাত্র ধর্ম।


হবিগঞ্জের মানুষ বসে থাকার নয়—তারা কাজ করে, লড়ে, বাঁচে। তাদের এই অদম্য কর্মস্পৃহা একদিকে যেমন অনুপ্রেরণার, অন্যদিকে তেমনি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রেখে যায়—আমরা কি তাদের জন্য আরও ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারছি?

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad