নবীগঞ্জে অটোরিকশা শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে যাত্রীদের নাভিশ্বাস
Led Bottom Ad

তুচ্ছ ঘটনায় হামলা-ভাঙচুর নিত্যদিনের সঙ্গী

নবীগঞ্জে অটোরিকশা শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিনিধি., নবীগঞ্জ

০৫/০৫/২০২৬ ১১:২০:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘ এক বছর ধরে চলা আধিপত্য বিস্তার ও সিরিয়াল সংক্রান্ত বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রায়ই অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকছে, ঘটছে চালক মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা। ফলে আউশকান্দি, ইনাতগঞ্জ, শেরপুর ও বানিয়াচং রুটে চলাচলকারী শত শত যাত্রীকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, আউশকান্দি-নবীগঞ্জ-বানিয়াচং, শেরপুর-সৈয়দপুর বাজার-ইনাতগঞ্জ এবং আউশকান্দি-সঈদপুর-ইনাতগঞ্জ সড়কে এক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় অন্য সংগঠনের অটোরিকশা প্রবেশ করলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গীর ও মুকিতের মতো সাধারণ চালকরা জানান, প্রতিপক্ষ সংগঠনের এলাকায় গেলেই তাদের মারধর করা হচ্ছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এমনকি গাড়ি আটক করে পুলিশে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

শ্রমিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতির জটিলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। শেরপুর-সৈয়দপুর বাজার-ইনাতগঞ্জ সড়কের শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজু মিয়া অতিরিক্ত টোকেন ইস্যুকে সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ইনাতগঞ্জ শ্রমিক সংগঠনের ফয়জুর রহমান দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে সৈয়দপুর বাজার সমিতি তাদের চলাচলে অনৈতিকভাবে বাধা দিচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে মারামারির জেরে গত মে দিবসে বড় সংঘর্ষের পর তারা একে অপরের এলাকায় যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছেন। আউশকান্দি সমিতির সভাপতি দিলশাদ মিয়া মেম্বার জানান, ৯ মাস আগে ঘটা একটি তুচ্ছ হাতাহাতির ঘটনা সালিশে মীমাংসা হলেও ইনাতগঞ্জ সমিতির চালকরা এখনো চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমঝোতা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে শেরপুর ও সৈয়দপুর সমিতির নেতাদের নিয়ে সালিশি সভা করেছে এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই রুটগুলোতে যাত্রীদের আতঙ্ক কাটছে না।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad