“জলমহাল দখলে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ রাজনীতি—শাল্লার চাঞ্চল্য!
Led Bottom Ad

“জলমহাল দখলে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ রাজনীতি—শাল্লার চাঞ্চল্য!

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৫/০৫/২০২৬ ১৩:৪৯:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের উজানগাঁও এলাকায় যেন জলমহাল নয়—চালু হয়েছে এক ‘লাইভ থিয়েটার’। যেখানে কাহিনি আছে, চরিত্র আছে, আছে ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি রূপান্তরও!


স্থানীয়দের অভিযোগ, কাবিলা বিল জলমহাল ঘিরে চলছে এক অদ্ভুত ‘দখল বনাম দখল’ খেলা। নিয়ম অনুযায়ী সমবায় সমিতি ইজারা পেলেও বাস্তবে নাকি সেখানে বইছে ভিন্ন স্রোত—যেখানে আইন নয়, ‘কার দাপট বেশি’ সেটাই শেষ কথা।


অভিযোগ আরও নাটকীয়। স্থানীয়দের ভাষায়, কোথাও পানি শুকিয়ে মাছ ধরার আয়োজন, কোথাও আবার বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ—যেন জলমহাল নয়, কোনো ‘মাছ ধ্বংস অভিযান কেন্দ্র’!


সবচেয়ে মজার (এবং উদ্বেগজনক) অংশ হলো—রাজনৈতিক পরিচয়ের রঙ বদল। এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষমতার হাওয়া বদলালেই কেউ কেউ দ্রুত ‘দল বদলের ট্রেন’ ধরতে সময় নেন না—বরং এক লাফেই উঠে যান নতুন প্ল্যাটফর্মে। স্থানীয়দের ভাষায়, “কালকে যিনি একদিকে ছিলেন, আজকে তিনি অন্যদিকে—আর কালকে হয়তো মাঝখানে!”


এদিকে চাঁদাবাজি ও মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে, যা স্থানীয়দের ভাষায় একধরনের ‘মামলা সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস’ চালুর মতোই শোনাচ্ছে—যেখানে ভয় দেখালেই নাকি বিল পে করতে হয়!


ভুক্তভোগীদের একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ক্ষোভ মিশিয়ে বলেন, “এখানে আমরা মানুষ না, যেন কেবল কেস ফাইল আর টার্গেট।”


অন্যদিকে রাজনৈতিক পক্ষ থেকেও এসেছে দূরত্বের বার্তা। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত ব্যবসা চালায়, সেটা তার নিজের দায়িত্ব—দলের নয়।”


অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য—তিনি নাকি আদালতে গেছেন এবং জলমহাল তার ‘জিম্মায়’। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্নই এখন আসল কৌতুক: সরকারি জলমহাল কখন থেকে ব্যক্তিগত জিম্মা হয়ে গেল, সেটা কি নতুন কোনো প্রশাসনিক আপডেট?


সব মিলিয়ে শাল্লার এই জলমহাল এখন শুধু মাছের জায়গা নয়—এটা হয়ে উঠেছে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর রাজনৈতিক ‘ভোলবদলের’ এক চলমান নাট্যমঞ্চ। আর দর্শক? পুরো এলাকা!

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad