ভাটি বাংলার সিংহপুরুষ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্মদিন আজ
আজ ৫ মে, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র ও বর্ণাঢ্য রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই ধীমান পার্লামেন্টারিয়ান। ছাত্র ইউনিয়নের তুখোড় নেতা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ ৫৯ বছরের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যেখানে তিনি ৫ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ন্যাপ থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন।
তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা ও হাস্যরসের মাধ্যমে জটিল সাংবিধানিক বিষয় সহজভাবে উপস্থাপনের ক্ষমতা তাঁকে দল-মতের ঊর্ধ্বে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। সংসদে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের গভীর মনোযোগ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা দেশের রাজনীতিতে বিরল।
আজ তাঁর জন্মদিনে সুনামগঞ্জসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই ক্ষণজন্মা জননেতাকে স্মরণ করছে। ভাটি বাংলার এই সিংহপুরুষ তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা, প্রগতিশীল চিন্তা এবং সংসদীয় রাজনীতির প্রজ্ঞার মাধ্যমে এদেশের আপামর জনগণের হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবেন। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আগামীর তরুণ রাজনীতিকদের জন্য এক আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: