চ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুমের উপায় জানতে চেয়েছিল ঘাতক হিশাম
Led Bottom Ad

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন

চ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুমের উপায় জানতে চেয়েছিল ঘাতক হিশাম

প্রথম ডেস্ক

২৭/০৪/২০২৬ ১৮:০৯:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যার লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘাতক হিশাম আবুঘারবিয়াহ (২৬) এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট 'চ্যাটজিপিটি'র কাছে মরদেহ গুম করার উপায় জানতে চেয়েছিল। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

আদালতের নথিতে দেখা গেছে, হত্যার কয়েকদিন আগে থেকেই হিশাম চ্যাটজিপিটিকে একাধিক সন্দেহজনক প্রশ্ন করেন। গত ১৩ এপ্রিল তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, কাউকে ‘একটি কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী ঘটবে’ এবং ‘পুলিশ কীভাবে তা খুঁজে বের করবে?’ এরপর ১৫ এপ্রিল তিনি গাড়ির নম্বর পরিবর্তন এবং ১৭ এপ্রিল হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি পরীক্ষা করা হয় কি না, তা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সাথে কথা বলেন।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) টাম্পার একটি ব্রিজের ওপর থেকে বড় আবর্জনার ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এদিকে, নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে পিনেলাস কাউন্টির একটি জলাশয় থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অংশগুলো বৃষ্টির কি না, তা শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

লিমনের রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘারবিয়াহকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা লিমন ও হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে বসার ঘর থেকে বেডরুম পর্যন্ত রক্তে ভেজা মেঝে খুঁজে পেয়েছেন। সেই রক্তে লিমন ও বৃষ্টি উভয়ের ডিএনএ পাওয়া গেছে। প্রসিকিউটরদের মতে, হিশাম পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। অভিযুক্ত হিশাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং মঙ্গলবার তাঁকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে হিশামের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad