মৌলভীবাজারে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ
মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার সাতটি উপজেলার ২২৫টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে এবং ভেঙে পড়েছে ১৯টি খুঁটি। ফলে বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে ডুবে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
সরেজমিনে কমলগঞ্জ ও রাজনগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চারবার আঘাত হেনেছে কালবৈশাখী। ঝড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রের ওপর বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে তিনটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাইন ছিঁড়ে গেছে। শমশেরনগর বাজার ও রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নেও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় কয়েক দফার এই ঝড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সমিতির ৯ হাজার ৬২২ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে ১৯টি খুঁটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং ২৩টি খুঁটি হেলে পড়েছে। এছাড়া ৪২১টি স্থানে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৫৬টি মিটার ভেঙেছে এবং ২৭টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “২৪ ঘণ্টায় কয়েকবার কালবৈশাখী তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে সমিতির নিজস্ব জনবল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সম্মিলিতভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।” ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ এবং মেরামতের কাজে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: