মৌলভীবাজারে পাম্প হাউস সিন্ডিকেটে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন
Led Bottom Ad

কাউয়াদীঘি হাওরে জলাবদ্ধতা

মৌলভীবাজারে পাম্প হাউস সিন্ডিকেটে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৭/০৪/২০২৬ ১০:৪৮:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওর এলাকার হাজারো প্রান্তিক কৃষকের কষ্টের ফসল এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণ ও চাষাবাদ সহজ করতে আশির দশকে নির্মিত ‘মনু ব্যারাজ প্রকল্প’ এখন কৃষকের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অসাধু কর্মচারী ও প্রভাবশালী ঘের ইজারাদারদের গড়ে তোলা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে রাজনগরের কাশিমপুর পাম্প হাউস এখন কৃষকের ‘সর্বনাশের হাতিয়ারে’ পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওরের নিচু এলাকায় মাছের ঘের ইজারাদারদের সুবিধা দিতে পাম্প হাউসের পানি সেচ প্রক্রিয়া ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইজারাদাররা হাওরে পোনা মাছ ছেড়েছেন এবং মাছ দ্রুত বড় করার স্বার্থে হাওরে পানি ধরে রাখা প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, এই স্বার্থ রক্ষায় পাউবোর সংশ্লিষ্টরা পাম্প সচল রাখছেন না। ফলে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির পানি হাওর থেকে সরতে পারছে না এবং সহস্রাধিক হেক্টর বোরো জমি এখন কোমরসমান পানিতে তলিয়ে আছে।

কাউয়াদীঘি হাওরপারের কান্দিগাঁও গ্রামের কৃষক রনি আহমদ মিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর ১৭ কেয়ার জমির মধ্যে মাত্র দেড় কেয়ার জমির ধান কাটতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “মাছের ঘেরে পানি ধরে রেখে ইজারাদারদের সুবিধা দিতে গিয়ে আমাদের সর্বনাশ করা হয়েছে। পাম্প হাউসের ৮টি পাম্পের সব কটি সচল থাকলে এই জলাবদ্ধতা হতো না।” একই গ্রামের শেখ আহবাবুর রহমান অভিযোগ করেন, সেচ বন্ধ রাখার জন্য পাম্প হাউস কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন নতুন নতুন অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মনু প্রকল্পে ১০ হাজার ২৪০ হেক্টর জমির মধ্যে কাউয়াদীঘি হাওরেই রয়েছে ৬ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো জমি। জেলার অন্যান্য হাওরে অর্ধেকের বেশি ধান কাটা শেষ হলেও এই জলাবদ্ধতার কারণে কাউয়াদীঘি হাওরের চিত্র ভিন্ন। কোথাও কোথাও ধান ডুবুডুবু অবস্থায় থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, আর শ্রমিকের চড়া মজুরি দিয়েও তলিয়ে যাওয়া ধান উদ্ধার করা যাচ্ছে না।

তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ। তিনি সমকালকে বলেন, “হাওরে পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় চারদিকের পানি হাওরে জমা হচ্ছে। একসাথে আটটি পাম্প চালানোর মতো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পানি দ্রুত কমানো সম্ভব হচ্ছে না।” প্রশাসনের এমন দায়সারা বক্তব্যে কৃষকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে; তাঁদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বছরের একমাত্র ফসলটুকু ঘরে তোলা সম্ভব হবে না।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad