কৃষকদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ
আজমিরীগঞ্জ ফলন ভালো হলেও ধানের দামে ধস
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও হাসিমুখে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। বাজারে ধানের দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন তাঁরা। সারাবছরের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ধানের বর্তমান বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় অত্যন্ত কম হওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে এখন কেবলই দুশ্চিন্তার ছাপ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে আজমিরীগঞ্জে ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত ধান কাটার কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারদরের চিত্রটি ভিন্ন।
আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের শুক্রীবাড়ি গ্রামের কৃষক সৌরভ মিয়া জানান, তিনি নিজের ও ইজারা নেওয়া জমি মিলিয়ে ৬৫ বিঘা জমিতে হাইব্রিড ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় গড়ে ১৯ মণ ফলন হলেও বিঘাপ্রতি ৫ মণ ধান দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। অবশিষ্ট ধান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭১০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে। তাঁর আক্ষেপ, “বাজারে চাল কিনতে গেলে দাম কমে না, কিন্তু আমাদের ধান বেচতে গেলে ন্যায্যমূল্য মেলে না।” শিবপাশা গ্রামের কৃষক আল আমিন ও আক্কাছ মিয়ার কন্ঠেও একই সুর। তাঁদের অভিযোগ, দেনা শোধ করতে মাত্র ৬৭৫ থেকে ৭০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
কৃষকদের দাবি, সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযান দ্রুত শুরু না হওয়ায় এবং বাজারে ধানের দাম কম থাকায় তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। চাষাবাদ ও কাটার খরচ মেলাতেই অনেক কৃষক হিমশিম খাচ্ছেন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে এবং দ্রুত ধান কাটার কাজ চলছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহের কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে ধান-চালের মূল্য নির্ধারণ করে সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। খোলা বাজারে ধানের দাম কম থাকায় চাষিরা কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, তবে সরকারি সংগ্রহ পুরোদমে শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: