ছাতকে অর্ধশত কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ,বৈষম্যের অভিযোগে দোয়ারাবাজারে ক্ষোভ
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের ঘোষিত উন্নয়ন বরাদ্দকে ঘিরে দোয়ারাবাজার উপজেলাজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত দুটি উপজেলা হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে দোয়ারাবাজারকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
জানাগেছে ২৫ এপ্রিল ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অর্ধশত কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ ঘোষণা করেন সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। ঘোষিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলা হয়। তবে এসব প্রকল্পের অধিকাংশই ছাতক উপজেলায় হওয়ায় দোয়ারাবাজারবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সাধারণ মানুষ বলছেন, একই আসনের দুই উপজেলার মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে বর্তমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ে উভয় উপজেলার ভোটারদের সমর্থন নিয়েই তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন। অথচ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিজ উপজেলা ছাতককে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হলেও দোয়ারাবাজারকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একটি সংসদীয় আসনের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যের উচিত ছিল দুই উপজেলার উন্নয়ন চাহিদাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। একপাক্ষিক বরাদ্দ ভবিষ্যতে জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলা এনসিপির আহবায়ক আবদুস ছোবহান ২৭ এপ্রিল নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে একটি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ৭টা প্রকল্পের মধ্যে ৭টির অবস্থানই ছাতকে অর্থাৎ এমপি সাহেবের নিজ উপজেলায়। এমপি মহোদয়ের কাছে আমার প্রশ্ন আপনি কি শুধু ছাতক উপজেলারই প্রতিনিধিত্ব করেন নাকি দোয়ারা উপজেলার ও?আর যদি উভয় উপজেলার প্রতিনিধিত্ব করেন তাহলে কেন এই বৈষম্য? জুলাই পরবর্তী প্রজন্ম তথা দোয়ারাবাজার উপজেলার সাধারণ জনগণের কাছে এই বৈষম্য সহনশীল নয়।
দোয়ারাবাজারবাসীর দাবি, উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য না করে দুই উপজেলার জনগণের প্রতি সমান দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং দ্রুত দোয়ারাবাজারের অবকাঠামো, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: