হাওরে কৃষকের আশার আলো ‘সঞ্জীবনী প্লাটুন’: ধান কাটছে আনসার-ভিডিপি
প্রকৃতির বৈরী আচরণ আর আগাম বন্যার আশঙ্কায় যখন সুনামগঞ্জের হাওরবাসী দিশেহারা, তখন তাঁদের পাশে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) বিশেষ দল ‘সঞ্জীবনী প্লাটুন’। সোনালী ধান কাটার এই ভরা মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখে পড়া প্রান্তিক কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছে এই বাহিনীর সদস্যরা। রোদে পুড়ে আর বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে তাঁদের এই মানবিক উদ্যোগ এখন পুরো জেলায় প্রশংসিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ৮০ শতাংশ পরিপক্ক ধান দ্রুত ঘরে তোলা জরুরি। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে গত ২৬ এপ্রিল থেকে জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার হাওরগুলোতে একযোগে ধান কাটা শুরু করেছেন আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। শুধুমাত্র গত রবিবারেই তাঁরা অসহায় ও প্রান্তিক কৃষকদের ২৬ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে গোলায় পৌঁছে দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া এই কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, “প্রকৃতির বৈরী আচরণ এবং শ্রমিক সংকটে হাওরের কৃষকরা আজ অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় আছেন। সামনে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য মূল্যবান। কৃষকের সোনালী ফসল যেন চোখের সামনে নষ্ট না হয়, সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা ‘সঞ্জীবনী প্লাটুন’কে মাঠে নামিয়েছি। আমাদের সদস্যরা কৃষকের আপনজন হয়ে কাজ করছেন এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যেন দ্রুততম সময়ে পরিপক্ক ধান নিরাপদে কৃষকের গোলায় পৌঁছানো যায়।”
দুর্যোগের মুখে জীবনের মায়া ত্যাগ করে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার সুধীজন ও সচেতন মহল। স্থানীয় কৃষকরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই সদস্যরা পাশে না থাকলে হয়তো তাঁদের শ্রমের ফসল পানির নিচেই তলিয়ে যেত। জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৃষকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং স্বপ্নের ফসল রক্ষা করতে আগামী দিনগুলোতেও অন্যান্য উপজেলায় এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: