সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলার দেখার হাওর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন তাঁরা। এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আরও তিনজন কৃষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৪০) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে জমির উদ্দিন অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের জমির হোসেন নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীঘাটে নিজের দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের শিকার হন। গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান দুই কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও তিন কৃষক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে ধান কাটার ভরা মৌসুমে এমন প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন হাওরে কর্মরত কৃষকদের দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে মেঘের গর্জন শুরু হলে খোলা জায়গা বা হাওর থেকে দ্রুত নিরাপদ পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার জন্য কৃষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: