সুনামগঞ্জের বেহাল সড়কে কৃষকদের সোনার ধান ঘরে তোলাই দায়
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের হাসিমুখে ফসল ঘরে তোলার আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাওরের গভীর থেকে ধান কেটে খলায় (মাড়ানো ও শুকানোর জায়গা) নেওয়ার প্রধান ভরসা কাঁচা সড়কগুলো বৃষ্টিতে ভিজে কাদা আর গর্তে একাকার হয়ে যাওয়ায় ধান পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার কৃষককে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওরের কাঁচা সড়কগুলো একে তো ভাঙাচোরা, তার ওপর সামান্য বৃষ্টি হলেই সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ঠেলাগাড়ি, ট্রলি বা পিকআপ ভ্যান চালানো তো দূরের কথা, মাথায় ধানের আঁটি নিয়ে পায়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। শনির হাওরপাড়ের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক শফিউল আলম আক্ষেপ করে বলেন, “কষ্টে ফলানো ধান খলায় আনতে গিয়ে আমাদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা কেউ দেখে না। ভাঙা সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, মাটির সড়কে যানবাহন আটকে থাকে দিনভর। লাভের গুড় এখন পিঁপড়ায় খাচ্ছে—মজুরি আর পরিবহন খরচ দিতেই আমরা শেষ।”
জেলার ১৩৭টি হাওরে এ বছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদিত হচ্ছে। কেবল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতেই সাত হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে প্রায় ১১৫ কোটি টাকার ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও হাওরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো পাকা বা টেকসই করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। এর ফলে প্রতিবছরই ধান কাটার মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় মাঠেই ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, টিআর ও কাবিটা দিয়ে মাঝেমধ্যে সড়ক মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়ক পাকা করা জরুরি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক পাকা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন খান জানান, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কগুলোর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়েছে। কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে সড়ক মেরামত ও পাকা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কৃষকদের দাবি, কেবল আশ্বাসে নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী বছরগুলোতেও তাদের এই হাড়ভাঙা খাটুনি আর আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: