বৈরি আবহাওয়ায় ধান কাটা ও মাড়াই ব্যাহত
মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি: বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
মৌলভীবাজারে গত দুই দিনের টানা বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিতে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে মাঠের পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, যা ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চাষিরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকে হাকালুকি, কাউয়াদিঘী ও হাইল হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত দুদিন ধরে আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় চিত্র বদলে গেছে। যারা ইতিমধ্যে ধান কেটে ফেলেছেন, তাঁরা বৃষ্টির কারণে মাড়াই ও রোদে শুকাতে পারছেন না। অন্যদিকে, মাঠে থাকা পাকা ধান বৃষ্টির পানির কারণে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কাউয়াদিঘী হাওরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, "গতকাল থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করেছি, এখন ফসল ঘরে তোলার সময় এমন আবহাওয়া কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। হাওরে পানি বৃদ্ধি পেলে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়বে।" একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের কৃষক রইছ মিয়া। তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বাড়তি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়ে পানির নিচ থেকে ধান কাটাতে হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজারে ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে হাওর এলাকায় ইতিমধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি অংশ নিয়ে উৎকণ্ঠা কাটছে না কৃষকদের।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, "আমরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে গত কয়েকদিন ধরেই কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়ে আসছি। বিশেষ করে কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে। অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে অন্যান্য উপজেলায় বাকি থাকা ধান দ্রুত সংগ্রহের জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছি।"
এ রহমান
মন্তব্য করুন: