বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও অকাল বন্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ
সুনামগঞ্জে ‘সুজন’-এর পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত
“সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অব্যবস্থাপনা, অকাল বন্যার শঙ্কা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
সুজন জেলা কমিটির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাইদ ও মোজাহিদুল ইসলাম বজলুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অতিবৃষ্টির ফলে উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সতর্কবার্তা ও প্রশাসনের মাইকিংয়ের ফলে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান কেটে ফেলছেন, যা উৎপাদন ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওরের কোটি কোটি টাকার বাঁধ নির্মাণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি এবং দুর্বল ও অপরিকল্পিত বাঁধ সামান্য চাপেই ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মূলত নিজেদের দায় এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন উজানের বৃষ্টির অজুহাত দিয়ে কৃষকদের অপরিপক্ব ধান কাটতে বাধ্য করছে।
সভায় আরও বলা হয়, চলতি মৌসুমে ধান পাকতে বিলম্ব, জলাবদ্ধতা, বজ্রপাতের আতঙ্ক এবং বর্তমানে তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকেরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নবনির্মিত সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম দ্রুত চালুর জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জেলার পাঁচজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখলেও হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না।
পরিকল্পনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা সুজনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহিবুল ইসলাম, সুখেন্দু সেন হারু, একেএম আবু নাছার, সহ-সভাপতি শাহীনা চৌধুরী রুবি, যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হাসান আতাহেরসহ বিভিন্ন উপজেলা কমিটির সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ। সভায় জেলার সকল উপজেলার সমন্বয় করে চলতি বছরের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
ফরহাদ আহমেদ ফয়সাল
মন্তব্য করুন: