ভাঙন আতঙ্কে দুই উপজেলার বাসিন্দারা
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে সদর উপজেলা পর্যন্ত খোয়াই নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। একই সঙ্গে এক্সকাভেটর দিয়ে নদীর পাড় ও আশপাশের মাটি কেটে নেওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের নদীভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তীরবর্তী হাজারো মানুষ। প্রভাবশালী চক্রের এই কর্মকাণ্ডে কেবল নদীই নয়, ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোও এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে হবিগঞ্জ সদরের কামড়াপুর, গোবিন্দপুর, মাছুলিয়া, শায়েস্তাগঞ্জের কলিমনগর, লস্করপুর এবং চুনারুঘাটের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিন-রাত সমানতালে চলছে বালু ও মাটি উত্তোলনের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের আগস্টে পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুর ও লেঞ্জাপাড়া পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে সময় সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোমতে রক্ষা পেলেও বর্তমানের এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন সেই আতঙ্ককে আবারও উসকে দিয়েছে। নদী পাড়ের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ ও মুহিন মিয়া জানান, প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অবৈধ ট্রাক্টরের দাপটে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে জনভোগান্তি এখন চরমে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, “অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খোয়াই নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।” সচেতন মহলের মতে, এভাবে নদীর তলদেশ ও পাড় থেকে মাটি সরালে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং বর্ষায় পাড় ভেঙে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অবৈধ কর্মকাণ্ড করে কেউ পার পাবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের এমন আশ্বাসের পর সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: