সত্যি বলতে অপারগতা ওসি’র
চুনারুঘাটে শাড়ি জব্দ ১০ হাজার, মামলায় উল্লেখ ২৫৮
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি বাড়ি থেকে ১০ হাজার হাজার পিস ভারতীয় শাড়িসহ মোবাইল ও গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলাকালীন ২৫৮ টি শাড়ি জব্দ করার কথা উল্লেখ করা হয়। বাকি ৯৭৪২ টি শাড়ি কোথায় গেল-এমন প্রশ্নের জবাব নেই থানা পুলিশের কাছে। এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। থানায় মামলা করেন এএসআই জাকির হোসেন।
জানা যায় জানা যায় (১৪ জুলাই) সোমবার গভীর রাতে পুলিশ চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা গাজিনগর গ্রামের মৃত ফারুক মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার পিস ভারতীয় শাড়ি, মোবাইল ও গাঁজা জব্দ করে চুনারুঘাট থানা পুলিশ। তবে মালামাল জব্দ করার সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর সাক্ষী নেওয়া হয়। কিন্তু জব্দ তালিকায় কোনরকম সংখ্যা বা পরিমাণ না বসিয়ে কৌশলে দ্রুত সময়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা।
প্রত্যক্ষ্যদর্শী ওয়াহিদ মিয়া ও রাসেল আহমেদ জানান, মালামালের সংখ্যা বলা হয় নি তবে ঘটনার সময় পুলিশ বস্তার সংখ্যা দেখার কথা জানায়। মালামালের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা ভিডিও সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।
গাজিনগর জামে মসজিদের মুসল্লি বলেন, ১৪ জুলাই রাতে ফারুক মিয়ার ছেলে তামিমের মাটির ঘর থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, মোবাইল ও কসমেটিকসসহ মাদক জব্দ করে।প্রতিদিন রাতে এই সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পাচার হয়। ফজরের নামাজে আসার সময় প্রায় অবৈধ ভারতীয় মালামালের গাড়ি দেখতে পান তারা।
একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, ওইদিন জব্দ হওয়া মালামালের মূল্য কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু জব্দ তালিকায় ২৫৮টি শাড়ি দেখে তারা অবাক হন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুনারুঘাট থানার এসআই আল মামুন এ ব্যাপারে সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি যা পেয়েছি তাই মামলা দিয়েছি।’
চুনারুঘাট থানার (ওসি) মোহাম্মদ নুর আলম এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
চুনারুঘার-মাধবপুর সার্কেলের এএসপি সালিমুর রহমান বলেন, অভিযানের সময়ের কোন ভিডিও থাকলে পর্যবেক্ষণ করে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ১০ হাজার পিচ মালামাল জব্দ করে ২৫৮ পিচ দিয়ে মামলা দিলে এবং অনিয়ম থাকলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: