বাহুবলে শিক্ষার্থীদের মিডডে মিলে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া ‘মিডডে মিল’ কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধ ডিম ও উন্নতমানের রুটি সরবরাহের কথা থাকলেও উপজেলার ১০৪টি বিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী কিছুই পায়নি বলে জানা গেছে।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান সড়কের পাশের হাতেগোনা কয়েকটি বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র ডিম দিয়ে দায়সারা কাজ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, তবে উপজেলার কোথাও রুটি পৌঁছানোর কোনো চিহ্ন মেলেনি। এমনকি অনেক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও ভাঙা ডিম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
বড়গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, তাদের বিদ্যালয়ে যে ডিম দেওয়া হয়েছে তা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অধিকাংশ ছিল ভাঙা।
গোলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, তাদের নামে বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীরা মিডডে মিলের কোনো খাবারই চোখে দেখেনি।
অন্যদিকে লাকুড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল মিয়া জানান, গত দুই মাস আগে তারা শুধু বিস্কুট পেয়েছিলেন, এরপর আর কিছুই জোটেনি।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সপ্তাহে একদিনের এই বিশেষ পুষ্টি কর্মসূচিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও প্রশাসনের দুর্বল তদারকির কারণে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে। অনেক সময় বিস্কুট দিয়েই পুরো দায়িত্ব শেষ করা হয়, যা শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে একেবারেই যৎসামান্য।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করছেন তবে কেন শিক্ষার্থীরা বরাদ্দকৃত খাবার পায়নি তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় এই অনিয়মের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: