হবিগঞ্জে মানবপাচার নিয়ে আতঙ্ক : নিখোঁজ ৪০ জনের সন্ধান চায় পরিবার
হবিগঞ্জ জেলায় মানবপাচারের কারণে উদ্বেগ বেড়েই চলছে। লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করা একের পর এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়া ৩৮ যুবকের সন্ধান এখনো মেলেনি। এরই মধ্যে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে আরও দুই যুবক ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে সানাবই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে লুৎফুর রহমান (৪০) এবং লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের বাসিন্দা জুনাইদ মিয়া রয়েছেন। তারা দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দালাল প্রথমে দাবি করেন, নিখোঁজরা গ্রিসে পৌঁছেছেন। কিন্তু নিখোঁজদের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত বার্তা না আসায় সন্দেহ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেছে। পরে দালালের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে ২৭ মার্চ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসগামী একটি নৌকাডুবির খবর প্রকাশিত হয়। এতে ২২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি। খাদ্য, পানি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের প্রাণহানি ঘটে।
নিখোঁজ লুৎফুর রহমানের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে ভাই ও জুনাইদকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আমরা শুধু জানতে চাই তারা বেঁচে আছে কি না।”
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে মূলহোতারা পলাতক।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দ্রুত নিখোঁজদের অবস্থান জানাতে হবে এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মানবপাচার সংক্রান্ত ৪,৩৬০টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ১,৩৪৬টি তদন্তাধীন এবং ৩,০১৪টি বিচারাধীন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার রুটটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: