বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার
‘প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধান মানেননি’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বারবার সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, "সংবিধান অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ সফর থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে আউটপুট জানানোর কথা থাকলেও, ড. ইউনূস ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ গিয়ে একবারও আমাকে জানাননি।"
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে অপ্রয়োজনীয় অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে যেখানে সংবিধানের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। এমনকি তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সেই সংকটময় মুহূর্তে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে নিজের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তাঁকে অত্যন্ত 'আন্তরিক ও কর্ডিয়াল' মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একে 'বিভিীষিকাময়' ও 'ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, গণভবনের মতো বঙ্গভবনও লুটের চেষ্টা হয়েছিল, যা সেনাবাহিনী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে প্রতিহত করে। পদত্যাগের প্রচণ্ড চাপের মুখেও তিনি অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, "রক্ত ঝরলেও আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চেয়েছিলাম।"
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, তাঁর পুরো প্রেস উইং প্রত্যাহার করে তাঁকে কার্যত 'প্রতিবন্ধী' করে রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি থেকে শুরু করে প্রশাসনের কেউ তাঁকে পাত্তা দিত না এবং রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্রগুলোতে তাঁর ছবি ও বাণী দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে তাঁকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতাকে 'ঝড়' হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই কঠিন সময় অন্য কারো পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হতো কি না তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: