কমলগঞ্জে এক কিলোমিটার কাঁচা সড়কে হাজার মানুষের কান্না
কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর থেকে ধলাই সেতু পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক যেন তিন গ্রামের মানুষের নীরব কষ্টের প্রতিচ্ছবি। আকাশে মেঘ জমলেই রাস্তা হয়ে যায় হাঁটুসমান কাদার সাগর। সেই কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যায় শিশুরা, মাঠ থেকে ফসল নিয়ে ফেরে কৃষক। আর কেউ অসুস্থ হলে—সেই পথ যেন হয়ে ওঠে দুর্ভোগের দীর্ঘ পরীক্ষা।
শুকনো মৌসুমে দৃশ্যটা ভিন্ন, কিন্তু কষ্ট একই। তখন কাদা শুকিয়ে উড়ে ধুলা হয়ে চোখ-মুখ ঢেকে দেয়। হাঁটতে গেলেই ধুলার ঝড়, শ্বাস নিতে কষ্ট। তবু এ পথেই চলতে হয়।
স্থানীয়দের কাছে এই সড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়—এটাই তাদের জীবনরেখা। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে এটি এখন প্রায় অচল। কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, অটোরিকশাও চলতে পারে না। ফলে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রোগী—সবার জন্যই প্রতিদিনের যাতায়াত যেন এক কঠিন সংগ্রাম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কণ্ঠে জমে আছে দীর্ঘদিনের হতাশা। সামান্য বৃষ্টিতেই যখন রাস্তা ভেঙে পড়ে, তখন তাদের মনে প্রশ্ন জাগে—আর কতদিন? কতবার আবেদন করলে মিলবে একটি পাকা রাস্তা?
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাঝে মাঝে মাটি ফেলে সাময়িক সংস্কারের চেষ্টা হয়, কিন্তু তা স্থায়ী সমাধান নয়। কষ্টের চক্র ঘুরেই ফিরে আসে—বর্ষায় কাদা, শুকনোয় ধুলা।
তবু আশা ছাড়েননি গ্রামবাসী। তাদের বিশ্বাস, একদিন এই পথ পাকা হবে। তখন হয়তো স্কুলে যেতে কাদা মাড়াতে হবে না কোনো শিশুকে, অসুস্থ মানুষকে নিয়ে ছুটতে হবে না অসহায় হয়ে।
একটি পাকা রাস্তা—তাদের কাছে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: