ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে প্রাকৃতিক গ্যাসের এক বিশাল মজুত আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইতালীয় জ্বালানি জায়ান্ট ‘এনি’। সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই নতুন গ্যাসক্ষেত্রে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৩০ কোটি ব্যারেল কনডেনসেটের (তরল হাইড্রোকার্বন) মজুত রয়েছে। জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইন্দোনেশিয়া সরকারের দাবি, এই আবিষ্কারের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটিতে ইউরোপীয় কোম্পানি এনি’র উৎপাদন বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে তাদের দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট (এমএমএসসিএফডি), যা ২০২৮ সাল নাগাদ ২ হাজার এবং এর দুই বছর পর ৩ হাজার এমএমএসসিএফডিতে উন্নীত হতে পারে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া বলেন, “এটি একটি বিশাল আবিষ্কার। এর ফলে ২০২৮ সাল নাগাদ দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এই অর্থনীতি বর্তমানে বেশ চাপের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে তেল সরবরাহের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের সঙ্গেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া নিট তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় উচ্চমূল্যের জ্বালানিতে বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা দেশটির বাজেটে প্রভাব ফেলছে। নতুন এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: