প্রসঙ্গ: বাংলাদেশে বিহারী গোলযোগ
Led Bottom Ad

প্রসঙ্গ: বাংলাদেশে বিহারী গোলযোগ

মনোয়ার পারভেজ

০১/০২/২০২৬ ২০:৫৩:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বাংলাদেশে বিহারীদের নিয়ে একটি গোলযোগ শুনা যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের হাতে প্রাণ হারানো হাজারো তারার মধ্যে দুই নক্ষত্র হলেন কবি মেহেরুন্নেসা এবং কথা সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও, মিরপুরের বিহারী অধ্যুষিত অঞ্চল স্বাধীন হয়নি তখনও। ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের দখলে ছিল মিরপুর। ১৯৬৮ সাল থেকেই মিরপুর বিহারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানেও সেখানে ছিল তাদের একচেটিয়া দাপট। তখন বাঙালিরা সেখানে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সেখানে বাস করতেন দেশের প্রথম নারী শহীদ কবি মেহেরুন্নেসা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিহারীরা তাঁর পরিবার সহ তাঁকে হত্যা করে। সেসময় অসংখ্য বাঙালীদেরকে হত্যা করেছে তারা। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে বাঙালি নিধন চলে। তার প্রতিশোধ ও ফলস্বরূপ দেশ স্বাধীন অর্থাৎ মিরপুর বিহারিদের দখল মুক্ত হলে বিহারীদের উপরও বাঙালিরা নির্যাতন চালায়। পরবর্তীকালে অবশ্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়। 


বিহারীরাও এখানকার স্থানীয় ছিল না। তারা এসেছিল ভারতের বিহার রাজ্য থেকে। ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের ফলস্বরূপ তাদেরকে বাংলাদেশে, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্বপাকিস্থানে আসতে হয়েছে। এর আগেও কিছু সংখ্যাক বিহারীরা এখানে এসেছিল। দেশভাগ ও দাঙ্গার ফলেই মূলত বেশিরভাগ আগমন ঘটে। সুতরাং তাদের মনেও কিছু ক্ষত রয়েছে। কিন্তু তারা ভাষাগত কারণ হোক বা জাতিগত কারণ, বাঙালিদের সাথে দূরত্ব ছিল প্রথম থেকেই। পশ্চিম পাকিস্তানের অপশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামে তারা তারা বাঙালিদের বিপক্ষেই ছিল প্রথম থেকে। বাঙালিদের আন্দোলন-সংগ্রামে পশ্চিম পাকিস্তানের হয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে সবসময় তারা। দেশে যুদ্ধ শুরু হলে সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিহারীরা মিরপুরে এসে জরো হয়। এখানে তৈরি হয় তাদের শক্ত ঘাঁটি। সেখানকার বাঙালিদের উপর তারা নির্যাতন শুরু করে। তাদের সাথে ছিল জামায়াতে ইসলামির সংঘটিত 'রাজাকার', 'আলবদর' বাহিনী।


মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই বাঙালি-অবাঙালি যাতে একসাথে মিলে থাকতে পারে সেজন্য বাঙালিরা সেখানে 'একশন কমিটি' নামে একটি সংগঠন করে। কবি মেহেরুন্নেসাও ছিলেন সে কমিটির একজন সদস্য। কিন্তু বিহারীরা সেটাতে আগ্রহী ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি দস্যু ও রাজাকার, আলবদরদের সাথে নিয়ে বাঙালি হত্যায় মেতে উঠে তারা। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই অঞ্চলকে রাজাকার পাড়া বলেই ডাকা হতো। ভয়ে সাধারণ মানুষ সেদিকে যেতে চাইতো না। এসময় সেখানকার বাঙালিদের পাশাপাশি, অসংখ্য বাঙালিদের ধরে এনে সেখানে গণহত্যা করে আনন্দ, উল্লাস করতো বিহারীরা। অনেক লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরাও প্রাণ হারার তাদের হাতে। মিরপুর স্বাধীন হবার পর যে সত্য আবিস্কৃত হয় সেটি ছিল ভয়াবহ। অন্ততঃ ২৩টি বধ্যভূমি আবিস্কৃত হয় সেখানে। অসংখ্য মানুষের হাড়গোড়, মাথার খুলি পড়েছিল তখনও। অনুমান করা হয়, শুধু মিরপুরেই অন্ততঃ ২৫ হাজার বাঙ্গালীকে হত্যা করে বিহারীরা। তারা সবাই যে মিরপুরের বাসিন্দা ছিলেন তা নয়, ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে এনে হত্যা করা হয় তাদের। ঢাকার বাস সার্ভিসের বেশির ভাগ ড্রাইভার ও সহকারী ছিল বিহারী। ঢাকা ময়মনসিংহ রুটের অনেক বাস মিরপুরে নিয়ে এসে বাঙালী যাত্রীদের হত্যা করার সাক্ষ্যও পাওয়া যায়।


কবি মেহেরুন্নেসা কীভাবে তাদের টার্গেট হলো? ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ মিরপুরে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়, কবি মেহেরুন্নেসাও তাঁর বাড়িতে সেদিন উড়িয়েছিলেন স্বাধীন বাংলার পতাকা। 'মুক্তিযুদ্ধে নারীদের কথা' এই শিরোনামে ২০০০ সালের মার্চে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত একটি লেখায় পাওয়া যায়- ''কবি মেহেরুন্নেসা মিরপুরে অবাঙালিদের এলাকায় থাকতেন। তার বয়স ছিল মাত্র ৩০ বছর। সাহস ছিল দুর্বার। বিহারিদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে ২৩ শে মার্চ নিজ বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন। ২৭ শে মার্চে মিরপুরের বাড়িতে অবাঙালিরা তার দুই ভাই ও মাসহ কবি মেহেরুন্নেসাকে হত্যা করে। সম্ভবত তিনিই প্রথম শহীদ কবি।'' এই পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই মিরপুরে বিহারীরা বাঙালিদের সাথে প্রত্যক্ষ বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হানাহানি, কাটাকাটি। অন্যদিকে অ্যাকশন কমিটি বাঙালি-অবাঙালি যাতে সহ-অবস্থানে থেকে সুস্থ-সুন্দরভাবে দিন কাটাতে পারে এ নিয়ে কাজ করে চলে। সবশেষে ২৫ মার্চ সকালে অ্যাকশন কমিটি এই কার্য পরিচালনা করে। কিন্তু বেলা ৩টার দিকে কবি মেহেরুন্নেসাকে খবর দেয়া হয় মিরপুর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু দুই ভাই আর মা'কে ফেলে যেতে পারলেন না কবি মেহেরুন্নেসা। আসলে সবাইকে নিয়ে যাবেন এমন আশ্রয়ও খোঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি ভেবেছিলেন বিহারীরা তাঁর কোনো ক্ষতি করবেন না। তিনি তখনও তাদের সাথে কোনো বিবাদ ছাড়া একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু তিনি আসলে ভুল ছিলেন। সেটা প্রমাণ হয় মাত্র দুদিন পরেই। 


২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু হলে মিরপুরে বিহারীরা বাঙালিদের নিধনে মেতে ওঠে। জ্বালাও-পোড়াও, লুটতরাজ, ভাঙচুর, ধর্ষণ-নিপীড়ন, বাঙালি খোঁজে খোঁজে হত্যা শুরু করে তারা। ২৭ মার্চ সকালে বেশ কয়েকজন অবাঙালি মাথায় সাদা ও লাল পট্টি বেঁধে হাতে রামদা, তলোয়ার এবং চাকু-ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে কবি মেহেরুন্নেসার বাড়িতে। তারা প্রথমেই তাঁর দু'ভাইকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। কবি মেহেরুন্নেসা বলেন, ''ওরা তো কিছু করেনি, যা করেছি আমি, তোমরা আমাকে মারো।'' হত্যাকারীরা কোনো কথা শোনেনি। জবাই করে ফেলে তার দুই ভাইকে। দুইভাইকে হত্যার পর কবির মা মতান্তরে কবি কোরান শরীফ বুকে চেপে বলেছিলেন- ''আমরা তো কালেমা জানি, আমরা তো মুসলমান।'' কিন্তু কবির দুই ভাইয়ের পড়ে থাকা লাশের দিকে তাকিয়ে কবির মা অজ্ঞান হয়ে যান। বিহারীরা কবির মা ও কবিকে শিরশ্ছেদ করে। শহীদ হন ওরা সবাই। অপরাধ বাঙালি হওয়া-বাংলায় কথা বলা। আর কবির অপরাধ একজন বাঙালি হয়ে দারুণ প্রত্যয়ী উচ্চারণ- যা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, দখলদার বাহিনী এবং মিরপুরের অবাঙালিদের মনে ঘৃণা ও সহিংসতার উদ্রেক করে। শোনা যায়, হত্যার পর কবি মেহেরুন্নেসার খণ্ডিত মস্তক তাদের ফ্যানের সঙ্গে লম্বা চুল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। নারকীয় এই বীভৎসতা দেখে আলী আহাম্মদ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছিলেন-''জীবনে কোনোদিন এমন নির্মমতা ও নৃশংসতা আগে কখনো দেখিনি। কবি মেহেরুন্নেসার মস্তকবিহীন দেহ আমি জবাই করা মুরগির মতো ছটফট করতে দেখেছি। দীর্ঘদিন আমি ভাত খেতে পারিনি। থাকতে পারিনি আর মিরপুরে।'' জানা যায়, ঘটনার ৩-৪ দিন পর বিহারিরা ড্রাম এনে তার মধ্যে কবি মেহেরুন্নেসা ও তার পরিবারের সকলের মৃতদেহ ভরে লোহা ফ্যাক্টরির পিছনে ফেলে দেয়।


জহির রায়হানের ভাগ্যে কী ঘটেছিল বা সে কীভাবে তাদের টার্গেট হয়েছে? তা নিয়ে এখনো ধূম্রজাল রয়ে গেছে। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যখন হত্যা করা হয়, তখন জহির রায়হানের বড় ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। অগ্রজ, বড় ভাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় জহির রায়হান। ভাইকে খোঁজে ক্লান্ত সে। হঠাৎ একদিন একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন কল আসে জহির রায়হানের কাছে। তাঁর ভাইকে নাকি মিরপুরে ধরে নেওয়া হয়েছে। সেখানেই নাকি আছে তাঁর ভাই। ৩০ জানুয়ারি কাউকে কিছু না জানিয়ে জহির রায়হান তাঁর ভাইকে খুঁজতে যান সেখানে। তখন বিহারীরা তাঁকে করে অপহরণ করে, মতান্তরে স্বাধীন বাংলার মাটিতে প্রথম গুমের শিকার ও পরে সেখানেই শহীদ হন তিনি। তবে ফোন কলটি কার? এ নিয়েও আছে মত-দ্বিমত। বাঙালি দস্যুরা অর্থাৎ ঘরের শত্রু বিভীষনেরাই নাকি কৌশল করে তাঁকে সেখানে পাঠিয়েছিল। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার অনেক তথ্য তাঁর কাছে ছিল। সে চাপা পড়ে আজও হয়নি সে সত্য উদঘাটন। 


পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্দ বাঙালীরা যখন অনেক জায়গায় বিহারীদের উপর প্রতিশোধ নেয়া শুরু করে। তখন সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ জুরিস্ট (ICJ) সকলপক্ষের তথ্য সংগ্রহ করে ১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাঙালীদের হাতে বিহারী নির্যাতন সম্পর্কে লেখা হয়– “These reprisal actions became all the more understandable when it was learned how large numbers of intellectuals and leading Bengali figures had been rounded up and put to death within the last few days before the surrender of the Pakistan Army.” কিন্তু পাকিস্তান সরকার এগুলোকে পুঁজি করে বহির্বিশ্বে প্রচারণা চালায় যে, আটকে পড়া পাকিস্তানীদের বাংলাদেশ নির্যাতন করছে। এর প্রেক্ষিতে ঢাকায় ৪৫টি সহ সারা দেশে ১১৬টি ক্যাম্প স্থাপন করে এইসব আটকে পড়া পাকিস্তানীদের নিয়ে এসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ সরকার। আটকে পড়া পাকিস্তানীরাও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দাবি জানায়, দ্রুত তাদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে।


ভারতের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এরমধ্যে অন্যতম ছিল– পাকিস্তানে আটকে পড়া ৪ লক্ষাধিক বাঙালীকে ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশে আটকে পড়া ১০ লক্ষাধিক পাকিস্তানীকে ফিরিয়ে দেওয়া। বাঙালীদের ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো দাবিতে সর্বোচ্চ ছাড় দেয় বাংলাদেশ– সামান্য কিছু পাকিস্তানপন্থী ছাড়া সব বাঙালী ফিরে আসেন স্বাধীন বাংলাদেশে। কিন্তু বাংলাদেশ অবাক হয়ে দেখে, পাকিস্তান সরকার বিহারীদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। যে বিহারী জনগোষ্ঠী পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে বাঙালী নিধনে অংশ নিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে, রাজাকারদের সঙ্গে সামিল হয়েছে পাকিস্তান সেই বিহারীদেরকে ফিরিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করে। তাদেরকে ধোকা দেয় পাকিস্তানিরা। দীর্ঘ কূটনৈতিক দরবারের পর ১৯৮২ সালে তারা নাম মাত্র ১ লক্ষ ২৭ হাজার বিহারীকে ফিরিয়ে নেয়। বাকী প্রায় ৯ লক্ষ বিহারী সংগঠন তৈরী করে প্রত্যাবাসনের জন্য পাকিস্তানের কাছে দাবি জানাতে থাকলেও, পাকিস্তান সরকার এসবে আর কোন সাড়া দেয়নি।


মুক্তিযুদ্ধের পর প্রত্যাখ্যাত হিসেবে বিহারীদের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২০০৩ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে বাংলাদেশে জন্ম নেয়া ১০ জন বিহারী নাগরিকত্ব লাভ করে। এর সূত্র ধরে ২০০৮ সাল থেকে বাকি বিহারীরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করতে থাকে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের মার্চ মাসে একটি প্রত্যাবাসন কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্টে এই বিষয়ে শুনানী হয়। শুনানিতে দেশটির সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সোহেল মাহমুদ জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ৪০ থেকে ৫০ লাখ আটকে পড়া পাকিস্তানি বসবাস করছেন। ‘এই মানুষগুলোর দায়-দায়িত্ব শুধুই বাংলাদেশের’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এভাবে ‘আটকে পড়া পাকিস্তানী’ থেকে বিহারীরা ‘প্রত্যাখ্যাত পাকিস্তানী’তে পরিণত হয়। তবে বাংলাদেশে এখন তারা ভোটাধিকার, সরকারী চাকরী, রাজনীতিতে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের নাগরিক অধিকার ভোগ করছে অপরাপর বাংলাদেশীদের মতই। 


রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এখন তারা তাদের পুরোনো বন্ধু জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতিতেই জোরালো অবস্থান তৈরি করছে। এর পিছনে তাদের অস্তিত্বের সংকট, আশ্রয়-প্রশ্রয় ও আর্থ-সামাজিক অবস্থানের সংকট কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে। এবং জামায়াত-শিবিরও বিহারী ইস্যু নিয়ে ভিক্টিম কার্ড তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। 


তথ্যসূত্র: 

১. ৭১ এর একাত্তর নারী, সুপা সাদিয়া। কথাপ্রকাশ।

২. বিহারিদের আগমন ও তাদের অতীত। রাফসানযানি প্রীতম। বিডিনিউজ২৪.কম। ১৬ মে ২০১৬

৩. ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি’দের নিয়ে করণীয় কী। আলতাফ পারভেজ। প্রথম আলো। ২৩ অক্টোবর ২০২১

৪. একাত্তরের রণাঙ্গনে একজন বিহারি মুক্তিযোদ্ধা। আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ। প্রথম আলো। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

৫. মিরপুর: মুক্তিযুদ্ধের শেষ রণাঙ্গন। আহমাদ ইশতিয়াক। দ্যা ডেইলি স্টার। জানুয়ারি ৩০, ২০২৩

৬. আটকে পড়াদের দায়িত্ব নেবে না পাকিস্তান। নিউজ ডেস্ক, বাংলানিউজ২৪.কম। ৩১ মার্চ ২০১৫

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad