​বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন 'রোগীর ভোগান্তি': দুর্গন্ধে টেকা দায়, মেঝেতে ময়লার স্তূপ
Led Bottom Ad

​বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন 'রোগীর ভোগান্তি': দুর্গন্ধে টেকা দায়, মেঝেতে ময়লার স্তূপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার

২৪/০১/২০২৬ ১২:০২:৫১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​একসময় জরুরি প্রসূতিসেবা ও সাধারণ চিকিৎসায় একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করা সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন অযত্ন আর অবহেলায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের ওয়ার্ডের মেঝেতে ব্যবহৃত টিস্যু, ব্যান্ডেজ, তুলা আর যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা দেখে চেনার উপায় নেই এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।

​সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দোতলার পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডের শৌচাগারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ১০টি টয়লেটের সবকটিই স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধযুক্ত। টয়লেটের প্রধান দরজার সিটকিনি ভেঙে যাওয়ায় নাইলনের দড়ি দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে। মেঝের জমে থাকা ময়লা পানি মাড়িয়েই রোগীদের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। শৌচাগারের ট্যাপসহ যাবতীয় উপকরণ নষ্ট থাকায় বালতি দিয়ে পানি ঢেলে ময়লা পরিষ্কার করতে হয়।

​কেবিনে থাকা এক রোগী আক্ষেপ করে বলেন, "টয়লেটের যে অবস্থা, তাতে ভেতরে ঢুকলে সুস্থ মানুষও বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়বে। ওপর থেকে পানি ঢেলে আমাদের কাজ সারতে হয়।"

​পুরো হাসপাতালের চিত্রই যেন একই সুতায় গাঁথা। ওয়ার্ডের বিছানার চাদরগুলো দীর্ঘদিনের ময়লায় কালো হয়ে আছে। জরাজীর্ণ জানালা-দরজা আর দেয়ালজুড়ে থুতু ও কাশির দাগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মশা ও মাছির উপদ্রব। নারী ওয়ার্ডের রোগী চম্পা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রোগ সারাতে এসে নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে মনে হচ্ছে আমরা আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ব।"

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০-৩০০ এবং জরুরি বিভাগে ১৫০-২০০ রোগী চিকিৎসা নেন। বিয়ানীবাজারের ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলার কয়েকশ মানুষ প্রতিদিন এখানে সেবা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে ৭০০-৮০০ মানুষের সমাগম থাকলেও সেই তুলনায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নিয়ম অনুযায়ী দিনে দুবার পরিষ্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে একবারও তা হয় না বলে অভিযোগ রোগীদের।

​বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান অব্যবস্থাপনার কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, "আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে টয়লেটগুলোর এমন অবস্থার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদেরও সচেতন হতে হবে।"

তিনি আরও জানান, বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad