ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত
কাজ শুরু না করায় ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথে পাঁচ প্রকল্পের কার্যাদেশ বাতিল
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু না করায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ৩টি এবং বিশ্বনাথ উপজেলায় ২টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কার্যাদেশ বাতিলের নোটিশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম)। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন “গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে টেন্ডার আইডি নং– ১১৫৫২৭৯ ও প্যাকেজ নং– ডিডিএম/ব্রিজ/২৫-২৬/১০৬৮ অনুযায়ী সিলেটের অ্যাম্বরখানা এলাকার মেসার্স ফাহাদ কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। একক টেন্ডারের আওতায় দুই উপজেলায় মোট ৫টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেবল বিশ্বনাথ উপজেলায় ২টি কালভার্টের কাজ শুরু করে।
অন্যদিকে নানা অজুহাতে ওসমানীনগর উপজেলার ৩টি কালভার্টের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না করায় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো. পারভেজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শেষ হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু কার্যাদেশ প্রদানের পরও অদ্যাবধি কাজ শুরু না করায় এটি কার্যাদেশের শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় পক্ষ কোনো আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে না এবং দায়ের করা হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ বিষয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে অবিলম্বে নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিলসহ জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি অতীব জরুরি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মেসার্স ফাহাদ কনস্ট্রাকশনের ওসমানীনগর প্রতিনিধি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্পের এমন অবস্থা হয়েছে। তবে শিগগিরই লে-আউট দেওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঠিকাদারি কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া গ্রহণে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: