নারী চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগে
সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড’ গঠন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একসঙ্গে তিনজন রোগী ভর্তি হতে আসেন। এ সময় এক রোগীর স্বজন দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ দায়িত্বরতদের ওপর হামলা চালান। এতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হেনস্তার শিকার হন এবং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মী মারধরের শিকার হন।
ঘটনার পরপরই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এক নারীসহ তিনজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে ওই তিনজনকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং একজন থানা হেফাজতে রয়েছেন।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রাত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে তর্ক ও মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। হামলার ঘটনায় কয়েকজন আটক রয়েছেন। হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, “হাসপাতালে রোগীসেবা দিতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অনেক সময় রোগীর স্বজনরা সেই প্রক্রিয়া মানতে চান না। আমাদের একজন নারী চিকিৎসককে হেনস্তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবো।”
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, “হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রাররা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় চিকিৎসকের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি থাকলে তা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হবে।
হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, “৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। বিপুল সংখ্যক রোগী সামলাতে গিয়ে চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: